প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বৃন্দাবনের মনে মনে লঙ্গা করিতে লাগিল, সে কথাটা চাপা দিবার অভিপ্রায়ে ৰলিল, কুরদার কথা কি বলছিলে মা ? মা বলিলেন, হুঁ, তার কথা । বৌমাকে নিয়ে আসার আগে কুঞ্জনাথকে সংসারী করাও আমার একটা কাজ। কাল খুব ভোরে তুই গোপালকে গাড়ি আনতে বলে দিল, আমি একবার নলডাঙ্গায় যাব । ওখানে গোকুল বৈরাগীর মেয়েকে আমার বেশ পছন্দ হয় । দেখতে শুনতেও মন্দ না, তা ছাড়া— কথাটা শেষ হইবার পূৰ্ব্বে বৃন্দাবন হাসিয়া বলিল, তা ছাড়া ঐ এক মেয়ে, বৈরাগীও কিছু বিষয়-আশয় রেখে মরেচে, না মা ? মা-ও হাসিলেন । বলিলেন, সে-কথা সত্যি বাছা । কুঞ্জর পক্ষে সবচেয়ে দরকার । নইলে, বিয়ে করলেই ত হয় না, খেতে পরতে দেওয়া চাই । আর মেয়েটিই বা মন্দ কি বৃন্দাবন, একটু কালো, কিন্তু মুখশ্ৰী আছে । যাই হোক, দেখি কাল কি করে আসতে পারি। বৃন্দাবন মাথা নাড়িয়া বলিল, আমিও দিন-ক্ষণ দেখাই গে মা ! তুমি নিজে যখন যাচ্চ, তখন শুধু যে ফিরবে না, সে নিশ্চয় জানি । -- কুঞ্জনাথের বিবাহের কথা, দেনা-পাওনার কথা, খাওয়ানো-দাওয়ানোর কথা সমস্তই প্রায় স্থির করিয়া পরদিন অপরাহ্নে বৃন্দাবনের জননী বাড়ি ফিরিয়া श्रांजिएलन । তখন চণ্ডীমণ্ডপের স্বমুখে সারি দিয়া দাড়াইয়া পোড়োর নামত আবৃত্তি করিতেছিল, বৃন্দাবন একধারে দাড়াইয় তাহাই শুনিতেছিল । গরুর-গাড়ি স্বমুখে আসিয়া থামিতেই তাহার শিশুপুত্র চরণ গাড়ি হইতে নামিয়া চেঁচামেচি করিয়া বাপের কাছে ছুটিয়া আসিল, মাতুলানী পছন্দ করিতে সেও আজ পিতামহীর সঙ্গে গিয়াছিল। বৃন্দাবন তাহাকে কোলে তুলিয়া লইয়া গাড়ির কাছে আসিয়া দাড়াইল । মা তখন নামিতেছিলেন, তাহার প্রসন্ন মুখ লক্ষ্য করিয়া সে কহিল, কবে দিন স্থির করে এলে মা ? - এই মাসের শেষে আর দিন নেই, তুই ভিতরে আয়—অনেক কথা আছে; বলিয়া তিনি হাসিমুখে চলিয়া গেলেন। তার নিজের ঘরে বোঁ আসিবে, এই আনন্দে তীর বুক ভরিয়া গিয়াছিল। তা ছাড়া ঐ একটি দিনে ঘরকল্পায় গৃহিণীপনায় কুস্কমকে তিনি সত্যই ভালবাসিয়া 3 se