প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরং-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বৈশাখের দ্বিপ্রহর কালমেঘে আচ্ছন্ন হইয়া ক্রমশঃ অন্ধকার হইয়া আসিতেছে । এইসময় হারাণবাবুর বাটীর রন্ধন-শালার বারান্দায় তাহার স্ত্রী ও বড় কন্যা ললনা মুখোমুখি হইয়া বসিয়া আছে । দু'জনেরই মুখ শুষ্ক, আজ একাদশী— ললনা বালবিধবা ; আর তাহার জননী—তিনিও এখন পৰ্য্যস্ত কিছুই আহার করেন নাই । ললনা বলিল, মা, অজো বাধ হয় বাবা আসবেন না ! মেঘ করে আসছে, যদি জল হয় তা হলে রান্নাঘরে দাড়াবার জায়গা থাকবে না । তুমি কেন একটু কিছু খেয়ে নাও মা ! ললনার জননী বলিল, আরও একটু দেখি, তিনদিন আসেননি—আজ যদি আসেন ? ." মা, বাবা এমনতর ত কখন করেন নি ; তিনদিন আসেন নি—আজ যদি না আসেন ? কি করব বল, ভগবান আছেন । একাদশীর দিন রাসমণি ( হারানবাবুর বড় ভগিনী ) বেলা করিয়া স্নান পূজা করিতেন ; এখন নিত্যকৰ্ম্ম সমাপ্ত করিয়া মালা ফিরাইতে ফিরাইতে নিকটে আসিয়া চীংকার করিয়া বলিলেন, বে, এখন পর্য্যন্ত খাস নি ? বে বিমৰ্ষভাবে কহিল, আরও একটু দেখচি । আমার পিণ্ডি—আরও একটু দেখে কি হবে ? ড্যাক্রা আজ এত বেলায় কি আর আসবে ? দেখগে যা—গাজা খেয়ে ভেঁ| হয়ে কোন মাগীর বাড়ি পড়ে আছে । উপবাস করিয়া রাসমণির মেজাজটা একটু খিটখিটে রকমের হইয়া পড়িত, কেহ কোন কথা কহিল না দেখিয়া আরো একটু কুপিত হইয়া বলিলেন, মুখপোড়া কবে মরবে যে আমাদের হাড় জুড়োবে । - এবার ললনার আর সহিল না । দুঃখিতভাবে বলিল, পিসিমা, একাদশীর দিন গাল দিচ্চ কেন ? একাদশীর দিন গাল দিচ্চ কেন ? কথাটা রামমণির ভিতরে গিয়া পৌঁছিল। অন্তরে ব্যথা পাইলেন এবং রীতিমত লজ্জিত হইলেন ; কিন্তু ছোট্ট ললনা যে এ-কথা বলিয়াছে ইহাতেই দ্বিগুণ জলিয়া গেলেন । তুই সেদিনকার মেয়ে, বুড়ো মাগীকে একাদশী-দ্বাদশী শেখাতে আমিসনে । তোরই বাপ হয়, আমার কি কেউ হয় না ? বলিতে বলিতে রাসমণির নয়ন আদ্র হইয়া আসিল-বাছা আমার তিনদিন বাড়ি আসেনি-বুকের ভিতর যে কি করচে তা ইষ্টদেবতাই জানতে পাচ্চেন। অঞ্চল দিয়া একফোটা অশ্র মুছিয়া, আমি বুড়োমানুষ, যদি একটা কথা বলি তা হলে তোরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে তার ভুল দেখিয়ে পাঁচটা কথা শুনিয়ে দিস —কাজ নেই মা, tr