প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অমৃতপ্ত দুষ্কৃতকারী নিরুপায় হইলে যেমন করিয়া নিজের অপরাধ স্বীকার করে, ঠিক তেমনি মুখের চেহারা করিয়া বৃন্দাবন জননীর কাছে আসিয়া বলিল, আমাকে মাপ কর মা, হুকুম দাও আমি খুজে পেতে তোমাকে একটি দাসী এনে দিই। চিরকাল এই সংসার ঘাড়ে নিয়ে তোমাকে সারা হয়ে যেতে আমি কিছুতেই দেব না। মা ঠাকুর-ঘরে পূজার সাজ প্রস্তুত করিতেছিলেন, মুখ তুলিয়া বলিলেন, কি করবি ? তোমার দাসী আনব। যে চরণকে দেখবে, তোমার সেবা করবে, আবশ্বক হলে এই ঠাকুর-ঘরের কাজ করতেও পারবে। হুকুম দেবে ত মা ? প্রশ্ন করিয়া বৃন্দাবন উৎসুক ব্যথিত-দৃষ্টিতে জননীর মুখের পানে চাহিয়া রহিল। মা এবার বুঝিলেন । কারণ, স্বজাতি ভিন্ন এ ঘরে প্রবেশাধিকার সাধারণ দাসীর ছিল না। কিছুক্ষণ মৌন থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, এ কি তুই সত্যি সত্যি বলছিল বৃন্দাবন ? - সত্যি বই কি মা ! ছেলেবেলা মিথ্যে বলে থাকি ত সে তুমি জান , কিন্তু বড় তোমার সামনে কখন ত মিথ্যে বলিনি মা । আচ্ছা, ভেবে দেখি, বলিয়া মা একটু কাজে মন দিলেন। বৃন্দাবন স্বযুখে আসিয়া বলিল—সে হবে না মা ! তোমাকে আমি ভাবতে সময় দেব না। যা হোক একটা হুকুম নিয়ে এ-ঘর থেকে বার হব বলে এসেছি, হুকুম নিয়েই যাব । কেন ভাবতে সময় দিবিনে ? তার কারণ আছে মা ! তুমি ভেবে-চিন্তে যা বলবে, সে শুধু তোমার নিজের কথাই হবে, আমার মায়ের হুকুম হবে না। আমি তালমন্দ পরামর্শ চাইনে—শুধু অনুমতি চাই । মা মুখ তুলিয়া ক্ষণকাল চাহিয়া থাকিয়া বলিলেন, কিন্তু একদিন যখন অনুমতি দিয়েছিলুম, সাধা-সাধি করেছিলুম, তখন ত শুনিস্নি বৃন্দাবন ? তা জানি । সেই পাপের ফলই এখন চারিদিক থেকে ঘিরে ধরেছে, বলিয়া বৃন্দাবন মুখ নত করিল। সে ষে এখন শুধু তাহাকেই স্বৰী করিবার জন্য এই প্রস্তাব উত্থাপন করিয়াছে, এবং ইহা কাজে পরিণত করিতে তাহার যে কিরূপ বাজিবে, ইহা নিশ্চিত বুৰিয়া মার চোখে জল আসিল । তিনি সংক্ষেপে কহিলেন, এখন থাকু বৃন্দাবন, ছ’দিন পরে बृब्ाब् । פארל