প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ র্তারা কে ? আমি ? কুকুম মৌনমূপে সম্মতি জানাইল । বৃন্দাবন কহিল, সে হয় না। আমি তোমার কোন বিষয়েই হাত দিতে পারিনে । পারেন শুধু মা। তুমি যেমন আচরণই তার সঙ্গে করে থাক না কেন, চরণের হাত ধরে স্বাও তার কাছে—উপায় তিনি করে দেবেনই। কিন্তু তোমার দাদা ? কুমের চোপ দিয়া জল গড়াইয়া পড়িল । মূছিয়া বলিল, বলচি ত আমার দাদা মরে গেছেন । কিন্তু, কি করে আমি দিনের বেলায় পায়ে হেঁটে ভিক্ষুকের মত গ্রামে গিয়ে ঢুকব ? বৃন্দাবন বলিল, তা জানিনে, কিন্তু পারলে ভাল হ’ত । এ-ছাড়া আর কোন সোজা পথ আমি দেখতে পাইনে । কুক্কম ক্ষণকাল স্থির থাকিয়া বলিল, আমি যাব না । খুশি তোমার। সংক্ষিপ্ত সরল উত্তর । ইহাতে নিহিত অর্থ বা কিছুমাত্র অস্পষ্টত নাই । এতক্ষণে কুক্কম সত্যই ভয় পাইল । বৃন্দাবন আর কিছু বলে কি না, শুনিবার জন্য কয়েক মুহূৰ্ত্ত লে উদগ্রীব হইয়া অপেক্ষা করিয়া, রহিল, তাহার পর অতিশয় নম্র ও কুষ্ঠিতভাবে ধীরে ধীরে বলিল, কিন্তু এখানেও আমার যে আর দাড়াবার স্থান নেই। আমি দাদার দোষও দিতে চাইনে, কেননা নিজের অনিষ্ট করে পরের ভালো না করতে চাইলে তাকে দোষ দেওয়া যায় না কিন্তু তুমি ত অমন করে ঝেড়ে ফেলে দিতে পার না ? বৃন্দাবন কোন উত্তর না দিয়া উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, বেলা হ’ল। চরণ, তুই থাকবি, না যাবিরে ? থাকবি ? আচ্ছা থাকৃ। তোমার ইচ্ছে হলে যেয়ো । আমার বিশ্বাস, ও-বাড়িতে ওর হাত ধরে মায়ের সামনে গিয়ে দাড়ালে তোমার খুব মন্ত অপমান হ’তে না । ষাক চললুম, বলিয়া পা বাড়াইতে কুষম সহসা চরণকে কোল হইতে নামাইয়া দিয়া সোজা উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, আজ সমস্ত বুঝলুম ! আমার এত বড় দুঃখের কথা মুখ ফুটে জানাতেও যখন দাড়িয়ে উঠে জবাব দিলে, বেলা হ’ল চললুম, আমি কত নিরাশ্রয় তা স্পষ্ট বুঝেও যখন আশ্রয় দিতে চাইলে না, তখন তোমাকে বলবার বা আশা করবার আর কিছুই নেই। তবু আরও একটা কথা জিজ্ঞেস করব, বল, সত্যি জবাব দেবে ? বৃন্দাবন ক্ষুব্ধ ও বিস্থিত হইয়া মুখ তুলিয়া বলিল, দেব। আমি আশ্রয় দিতে অস্বীকার করিনি, বরং তুমিই নিতে অস্বীকার করেছ। কুস্কম দৃঢ়কণ্ঠে কহিল, মিছে কথা । আমার কপালের দোষে কি যে দুর্থতি হয়েছিল, মার মনে আঘাত দিয়ে একবার গুরুতর অপরাধ করে ফেলেছি, জশুৰামী >伊鲁