প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মেজদিদি সশৰে চঞ্চ কমাইরা দিয়া কহিলেন, বঙ্গমাইল চোর, আমি তোকে চুরি করতে শিখিয়ে দিয়েচি ? কতদিন তোকে আমার বাড়ি ঢুকতে বারণ করেচি, কতবার তোকে তাড়িয়ে দিয়েচি ! আমার নিশ্চয় বোধ হচ্চে, তুই চুরির মতলবেই যখন তখন উকি মেরে দেখডিস। ইতিপূৰ্ব্বে বাড়ির সকলে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছিল। শিৰু কছিল, আমি নিজের চক্ষে দেখেছি মা, পরশু রাত্তিরে ও তোমার ঘরের স্বমুখে আঁধারে দাড়িয়েছিল, আমাকে দেখেই ছুটে পালিয়ে গেল। আমি এসে না পড়লে নিশ্চয় তোমার ঘরে ঢুকে চুরি করত। পাচুগোপাল বলিল, জানে মেজখুড়িমার জন্থখ শরীর—সন্ধ্যা হলেই ঘুমিয়ে পড়েন— —ও কি কম চালাক ! মেজবোঁয়ের কেষ্টর প্রতি আজকার ব্যবহারে কাদম্বিনী যেরূপ প্রসন্ন হইলেন, এই ষোল বৎসরের মধ্যে কখনও এরূপ হুন নাই। অত্যন্ত খুণী হইয়া কহিলেন, ভিজে বেড়াল! কেমন করে জানব মেজবোঁ, তুমি ওকে বাড়ি ঢুকতেও বারণ করেচ। ও বলে বেড়ায়, মেজদি আমাকে মায়ের চেয়ে ভালবাসে। ঠোঙা-মুগ্ধ নির্শাল টান মারিয়া ফেলিয়া দিয়া বলিলেন, টাকা তিনটে চুরি করে কোথা থেকে দুটাে ফুলটল কুড়িয়ে এনেচে । বাড়ি লইয়া গিয়া বড়কর্তা চোরের শাস্তি শুরু করিলেন । সে কি নিৰ্দ্দয় প্রহর । কেই কথাও কহে না, কাদেও না। এদিকে মারিলে ওদিকে মুখ ফিরায়, ওদিকে মারিলে এদিকে মুখ ফিরায়। ভারী গাড়িমৃদ্ধ গরু কাদায় পড়িয়া যেমন করিয়া মার খায়, তেমনি করিয়া কেষ্ট নিঃশবে মার খাইল । এমন কি কাদম্বিনী পৰ্য্যন্ত স্বীকার করিলেন, ই, মার খাইতে শিখিয়াছিল বটে ! কিন্তু ভগবান জানেন, এখানে আসার পূৰ্ব্বে নিরীহ স্বভাবের গুণে কখন কেহ তাহার গায়ে হাত তুলে নাই। হেমাঙ্গিনী নিজের ঘরের ভিতর সমস্ত জানালা বন্ধ করিয়া দিয়া কাঠের মূৰ্ত্তির মত বসিয়াছিলেন। উমা মায় দেখিতে গিয়াছিল, ফিরিয়া আসিয়া বলিল, জ্যাঠাইমা বললেন, কেইমামা বড় হলে ডাকাত হবে । ওদের গায়ে কি ঠাকুর আছে— উমা ? মায়ের অশ্রুবিকৃত ভগ্ন কণ্ঠস্বরে উমা চমকাইয়া উঠিল। কাছে আসিয়া ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করিল, কেন মা ? ই রে, এখনো কি তাকে সবাই মিলে মারচে ? বলিয়াই তিনি মেঝের উপর উপুড় হুইয়া পড়িয়া কাজিয়া উঠিলেন। ३6a