প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মায়ের কান্না দেখিয়া উমাও কঁদিয়া ফেলিল । তার পর কাছে বলিয়া, নিজের আঁচল দিয়া জননীর চোখ মুছাইয়া দিতে দিতে বলিল, পেসন্নর মা কেষ্টমামাকে বাইরে টেনে নিয়ে গেছে । হেমাঙ্গিনী আর কথা কহিলেন না, সেইখানে তেমনি করিয়াই পড়িয়া রহিলেন । বেলা দু-তিনটার সময় সহসা কম্প দিয়া ভয়ানক জর আসিল । স্বাজ অনেকদিনের পর পথ্য করিতে বসিয়াছিলেন—সে খাবার তখনও একধারে পড়িয়া শুকাইতে লাগিল । সন্ধ্যার পর বিপিন ও-বাড়িতে বৌঠানের মুখে সমস্ত ব্যাপার অবগত হইয়া ক্রোধভরে স্ত্রীর ঘরে ঢুকিতেছিলেন, উমা কাছে আসিয়া ফিস ফিস করিয়া বলিল, মা জরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন । বিপিন চমকাইয়া উঠিলেন, সে কি রে, আজ তিন-চারদিন জত ছিল না ষ্টে ! বিপিন মনে মনে স্ত্রীকে অতিশয় ভালবাসিতেন । কত যে বাসিতেন তাহা বছর চার-পাঁচ পূৰ্ব্বে দাদাদের সহিত পৃথক হইবার সময় জানা গিয়াছিল। ব্যাকুল হইয়া ঘরে ঢুকিয়াই দেখিলেন, তখনও তিনি মাটির উপর পড়িয়া আছেন। ব্যস্ত হইয়া শয্যায় তুলিবার জন্য গায়ে হাত দিতেষ্ট হেমাঙ্গিনী চোখ মেলিয়া, একমুহূর্ত স্বামীর মুখের পানে চাহিয়া থাকিয়, অকস্মাং দুষ্ট পা জড়াইয়া ধরিয়া কাদিয়া উঠিলেন—কেষ্টকে আশ্রয় দাও, নইলে এ জর আমার সারবে না । মা দুর্গ আমাকে কিছুতে মাপ করবে না। বিপিন পা ছাড়াইয়া লইয়া, কাছে বসিয়া স্ত্রীর মাথায় হাত বুলাইয়া সাশ্বনা দিতে লাগিলেন । হেমাঙ্গিনী বলিলেন, দেবে ? বিপিন সজল চক্ষু হাত দিয়া মুছিয়া বলিলেন, তুমি যা চাও তাই হবে, তুমি ভাল হয়ে ওঠ । হেমাঙ্গিনী আর কিছু বলিলেন না, বিছানায় উঠিয়া শুইয়া পড়িলেন । জর রাত্রেই ছাড়িয়া গেল, পরদিন সকালে উঠিয়া বিপিন ইহা লক্ষ্য করিয়া পরম আহ্নাদিত হইলেন। হাত-মুখ ধুইয়া কিছু জলযোগ করিয়া দোকানে বাহির হইতেছিলেন, হেমাঙ্গিনী আসিয়া বলিলেন, মার খেয়ে কেষ্টর ভারি জর হয়েচে, তাকে আমি আমার কাছে নিয়ে আসচি । বিপিন মনে মনে অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া বলিলেন, তাকে এ-বাড়িতে আনবার দরকার কি ? যেখানে আছে সেখানেই থাক না । হেমাঙ্গিনী ক্ষণকাল স্তম্ভিত হইয়া থাকিয়া বলিলেন, কাল রাত্রে যে তুমি কথা দিলে, তাকে আশ্রয় দেবে ? RWs