প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ। বাট হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া ললনা খিড়কির দ্বার দিয়া ভবতারণ গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়ের বাটতে প্রবেশ করিল ; কিন্তু বিদুবাসিনী সেখানে নাই। পূৰ্ব্বরাত্রেই সে শ্বশুরবাট চলিয়া গিয়াছে। তাহাকে হঠাৎ যাইতে হইয়াছিল, না হইলে শুভদার সহিত নিশ্চয় একবার দেখা করিয়া যাইত । মান-মুখে ললনা ফিরিয়া আসিল । পথে তাহার কিছুতেই পা চলিতে চাহে না । গাজুলী-বাড়ি যাইবার সময় লজ্জায় তখনও পা চলিতেছিল না। কিন্তু শুধু হাতে ফিরিয়া আসিবার সময় আরো লজ্জা করিতে লাগিল। পথের ধারে একটা গাছতলায় অনেকক্ষণ দাড়াইয়া বহিল, তাহার পর কি ভাবিয়া অন্য পথে গঙ্গার ঘাট-পানে চলিল । নিকটে চক্রবর্তীদের বাট । বাহিরে আটচালার পার্থে সদানন্দ একটা গোবৎসকে বহুবিধ সম্বোধন করিয়া আদর করিতেছিল। ললনা সেইখানে প্রবেশ করিয়া নিকটে দাড়াইল । সদানন্দ মুখ ফিরাইয়া বলিল, ললনা, তুমি যে ! পিসিমা বাড়ি আছেন ? * e না । এইমাত্র কোথায় গেলেন । ললনা ইতস্ততঃ করিয়া একপদ পিছাইয়া দাড়াইল । সদানন্দ গোবৎসকে ছাড়িয়া দিয়৷ ললনার মুখপানে চাহিয়া বলিল, পিসিমার কাছে দরকার আছে কি ? 황 1 তিনি ত বাড়ি নেই, আমাকে বললে হয় না ? ললমাও সেই কথা ভাবিতেছিল, কিন্তু সদানন্দ জিজ্ঞাসা করিবামাত্র লজ্জায় তাহার সমস্ত বদন লাল হইয়া গেল ! বাটীতে কিছু খাইবার নাই সেইজন্য আসিয়াছি—ছি ছি! একথা কি বলা যায় ? একদিন না খাইলে কি চলে না ? কিন্তু আর সবাই ? শুভদাও একদিন ঠিক এই কথাই ভাবিয়াছিল, আজ ললনাও তাহাই ভাবিল—তবু মুখ ফুটে না । যে কখনো এ অবস্থায় পড়িয়াছে, সে-ই জানে ইহা বলা কত কঠিন ! সেই কেবল বুঝিবে ভদ্রলোকের একথা বলিতে গিয়া বুকের মাঝে কত আন্দোলন, কত ঘাত-প্রতিঘাত হইয়া যায় । বলিবার পূৰ্ব্বে কেমন করিয়া জিহবার প্রতি শিরা আপনা-আপনি আড়ষ্ট হুইয়া ভিতরে ভিতরেই জড়াইয়া যায় । ললন মুখ ফুটিয়া কিছুই বলিতে পারিল না ; কিন্তু সদানন্দ যেন বুঝিতে পারিল, তাহার মুখ দিয়া ভিতরের ছায়া বুঝি কতক অনুমান করিয়া লইল, তাই হাসিয়া উঠিয়া ললনার হাত ধরিল। সে পাগল ; সকলেই জানিত সদাপাগলার মতি-স্থির নাই। এমন অনেক কাজ সে করিয়া ফেলিত যাহা অন্তে করিতে পারিত ws ゲ電ー●