প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহঁ মদ ছিল না, ক্ষুদ্র আয়তনে যতখানি সম্ভব ঘটা করিয়া বড়মেয়ের বিবাহ দেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য, ললনা দুই বৎসরের মধ্যেই বিধবা হইয়া বাড়ি ফিরিয়া আসে। তখনও সারদাচরণের সহিত তাহার ভাব ছিল । সে ভাব কমিল না, বরং উত্তরোত্তর বাড়িতে লাগিল। ক্রমে দুইজনেরই বয়ঃক্রম বৃদ্ধি হইতে লাগিল ; ক্রমে দুইজনেই বুঝিতে লাগিল যে, এ প্রণয় পরিণামে বড় মুখের হইবে না । সারদাচরণ না বুঝুক কিন্তু ললনা একথা বেশ বুঝিতে লাগিল। ক্রমশঃ ললনা ভালবাসার দোকান-পাট একে একে বন্ধ করিয়া দিতে লাগিল । সে আর কাছে আসে না, আর আসিতে বলে না, আর ভালবাসা জানায় না, আর গোপনে তেমন করিয়া পত্র লিখে না—দেগিয়া শুনিয়া সারদাচরণ বড় বিপদে পড়িল । প্রথমে সে অনেক বুঝাইল, অনেক আপত্তি করিল, অনেক যুক্তি দেখাইল; কিন্তু ললনা কর্ণযুগল বন্ধ করিয়া রহিল। একদিন সে একরূপ স্পষ্টই কহিল, তার এসব ভাল লাগে না । সারদাচরণও সে দিবস কুপিত হইল, বলিল, যদি ভাল লাগে না তবে এতদিন লাগল কেন ? - এতদিন ছেলেমানুষ ছিলাম, এখন বড় হয়েছি । বড় হলে বুঝি আর ভাল লাগতে নাই ? না ! কিন্তু বুঝে দেখ– কথা শেষ না হইতেই ললনা বলিয়া উঠিল, আর বুঝে কাজ নাই। তুমি আমাকে আর কুপরামর্শ দিও না । - সারদাচরণ চটিয়া উঠিল, বলিল, আমি বুঝি তোমাকে কুপরামর্শ দিই ? দাও না ত কি । দিই ? দাও । তবে এস আজ সব শেষ করে দিই। ভালই ত । তোমার সঙ্গে এ-জন্মে আমি আর কথা ক’ব না। ক’য়ো না । তখন দুইজনে দুইজনের গন্তব্যস্থলে চলিয়া গেল। সমস্ত পথটা সারদাচরণ গর্জিতে গৰ্জ্জিতে গেল, সমস্ত পথটা ললনা চক্ষু মুছিতে মুছিতে চলিল। সে অাজ চারি বৎসরের কথা । চারি বৎসর পরে সারদাচরণ আবার ললনার পথ চাহিয়া ভগ্ন মন্দিরে বসিয়া রহিল। সে পূর্বের কথা একরকম ভুলিয়া গিয়াছিল, অন্ততঃ যাইতেছিল ; কিন্তু ললনাই পুনৰ্ব্বার অনুরোধ করিয়া তাহাকে এ-স্থানে 0३