প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এমন সময় দেখিতে পাওয়া গেল, এধারের বাবান্দা ঘুরিয়া বধু আসিতেছে। মনে হইল যেন এইমাত্র সে কাদিতেছিল—চোখ মুছিয়া উঠিয়া আসিয়াছে। কাল দীপের আলোকে যে মুখ স্বন্দর দেখাইয়াছিল, আজ দিনের বেলা, সূৰ্য্যালোকে স্পষ্ট বোঝা গেল, এমন সৌন্দর্ঘ্য আর কোনদিন চোখে পড়ে নাই। জীবিতও না, ছবিতেও না । বধু কহিল, আজ আমরা প্রস্তুত ছিলুম না। ভেবেছিলুম আসব বলে গেলেও হয়ত আসতে পারবেন না । সতীশের দিকে Fাহিয়া সহসা মৃদ্ধ হাসিয়া কহিল, ঠাকুরপো যে ! আজ সতীশ মাথা ষ্টেট করিল। উপেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিলেন, হায়ানদা কেমন ? বন্ধু সংক্ষেপে উত্তর দিল, তেমনি। আন্ধন ও-ঘরে যাই। হারানের ঘরে র্তার জননী অঘোরময়ী শয্যার পার্থে উপবিষ্ট ছিলেন। উপেন্দ্র প্ৰণাম করিতেই তিনি উচ্চৈস্বরে কাদিয়া উঠিলেন। হারান শ্রাস্ত-কণ্ঠে নিষেধ করিয়া বলিল, চুপ কর মা। উপেন্দ্র লজ্জায় দুঃখে একেবারে বসিয়া পড়িলেন। সতীশ এদিক-ওদিক চাহিয়া মুখ যথাসাধ্য ভারী করিয়া সেই কাঠের সিন্দুকটির উপর গিয়া বসিল । বধূ মুহূৰ্ত্তমাত্র দাড়াইয়া সতীশের দিকে বিছান্দাম কটাক্ষ করিয়া বাহির হইয়া গেল, যেন স্পষ্ট শাসাইয়া গেল, তোমরা কাজটা ভাল করিতেছে না। y & সতীশ স্থির করিল, ডাক্তারী পড়া ছাড়িবে না। তাই পরদিন সন্ধ্যার সময় কাহাকেও কিছু না বলিয়া বেহারীকে সঙ্গে করিয়া তাহার সাবেক বাসায় আসিয়া উপস্থিত হইল। বাড়িটা তখনও খালি পড়িয়া ছিল, বাড়িওয়ালাকে ধরিয়া ছয় মাসের বন্দোবস্ত করিল এবং নিকটবৰ্ত্ত হিন্দু আশ্রমে গিয়া সন্ধান করিয়া এক পাচক নিযুক্ত করিয়া খুনী হইয়া বাহির হইয় পড়িল। বেহারীকে কহিল, আমরা কালই চলে আসব—কি বলিস বেহারী ? বেহারী সন্মতি জানাইল । sகை