প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छब्रिञ्चशैन বুকের পজের। ওই যেখানে মাথা হেঁট করে ভূমি এখন বলে আছ, ঠিক ঐখানেই সেই পাজরগুলো খসিয়ে তার পায়ে ঢেলে দিলুম। আমার প্রতি আসক্তি তার মত বড়ই হোক, এতগুলো গহন হাতে পেলে সে যে আর কখনো মুখ দেখাৰে না. জন্মের মত রেহাই দিয়ে সে ষে চলে যাবে, এ মন্ত্রটা তুমিই যেন আমাকে শিখিয়ে দিলে । উঃ—কত ভয়, কত ভাবনাই ছিল জামার, পাছে এই ছুদিনের চাপে একদিন সেই গয়নাগুলোই আমার নষ্ট হয়ে যায়। তাই ত গেল—কৈ ধরে রাখতে তাদের ত পারলুম না। কিন্তু, আ-—লে কি তৃপ্তি, সে কি আশ্চৰ্য্য আনন্দ ঠাকুরপো ? এমনি এক অন্ধকার সন্ধ্যায় যখন সেইগুলোর লোতে সে তার বীভৎস পুচ্ছপাশ আমার সৰ্ব্বাঙ্গ থেকে খুলে নিয়ে চোরের মত নি:শঙ্কে সরে গেল, মনে হল বাঁচলুম। আমি বঁচলুম। . 鬱 উপেন্দ্রের মনে পড়িল তাহার এবং সতীশের মাঝখান দিয়া একদিন সকালে চোরে মত অনঙ্গ ডাক্তার সরিয়া গিয়াছিল। কিন্তু কোন কথা না কহিয়া চুপ করিয়া রহিল। কিরণময়ী কহিতে লাগিল, তোমার মনে পড়ে কি ঠাকুরপো, আমার সে রাতের উগ্ৰমূৰ্ত্তি ? সেদিন কত কাণ্ডই করেছিলুম। আড়ি পেতে তোমাদের কথাবার্তা শোনা, নীচে গিয়ে তোমাদের চোখ রাঙিয়ে কত ভয় দেখান, তার পরে তোমরা চলে গেলে । নিজের বিষের সে কি জালা। কিন্তু তার বদলে যে দুটি জিনিস পেলুম ঠাকুরপো, সে আমার স্বৰ্গ, সে আমার অমৃত । শ্রীরামচন্দ্রের পাদম্পর্শে পাষাণ অহল্যা যেমন মানুষ অহল্যা হয়েছিলেন, আমিও যেন তেমনি বদলে গেলুম। অহল্যা মানুষ হয়ে কি পেয়েছিলেন জানিনে, কিন্তু আমি বা পেলুম, তার তুলনা নেই। আমার ভাই ছিল না, সতীশকে পেলুম আমার মায়ের পেটের ভাই, আর পেলুম তোমাকে—ছিঃ ! অমন মলিন হয়ে না ঠাকুরপো, পুরুষমানুষের কি অত লজ্জা সাজে ? - উপেক্স জোর করিয়া মাথা সোজা করিয়া দৃঢ়স্বরে কহিল, যা লঙ্গার বস্তু, মেয়েপুরুষের উভয়েরই সমান বৌঠান। আমি এ সব কথা শুনতে চাইনে—হয় আপনি চু করুন, না হয় আমি এই মুহূর্বেই উঠে যাব । - কিরণময়ী কহিল, জোর করে নাকি ? - উপেন্দ্ৰ কহিল, হঁ্যা । কিরণময়ী কহিল, তা হলে আমিও জোর করে ধরে রাখবার চেষ্টা করব । কিন্তু ৰলে রাখচি ঠাকুরপো, এই জোরের পরীক্ষায় আমার লাভ ছাড়া লোকসান নেই। . এই উত্তরের পর উপেন্দ্র ঘাড় হেঁট করিয়া বসিয়া রহিল। কিরণময়ী পুনরায় হাসিয়া কহিল,—ভয় নেই গো, জয় নেই—তোমার অনিচ্ছায় গায়ে পড়ে তোমার গায়ে হাত দেব এত উন্মাদ এখনো হইনি। ইচ্ছা হয় উঠে যাও—আমি ৰাধা দেব না ! ››ፄ