প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ উপেন্দ্র কহিলেন, তোর বাক্ষ-বিছানা বেঁধে নে—আমার সঙ্গে যাবি। - অঘোরময়ী বিস্মিত এবং ব্যস্ত হইয়া বলিলেন, সে কি উপীন, রাত্তিরে ছেলেমান্থৰ কোথা যাবে ? আমার সঙ্গে যাবে, তার চিন্তা কি মাসীমা । নে রে, শীগগির ঠিক করে নে— অামি গাড়ি ডেকে আনি । অঘোরময়ী উপেন্দ্রর হাত ধরিয়া মিনতি করিতে লাগিলেন, না বাবা, জাজ অমাবস্তার রাত্রে ওর কিছুতে যাওয়া হবে না। ছেলেমাস্থ্য, একটা অন্যায় না হয় করে ফেলেচে,—এখানে না রাখিস, কাল-পরন্ত যাবে, কিন্তু আজ রাত্রে কিছুতে আমি ওকে যেতে দিতে পারব না। বাধা পাইয়া উপেন্দ্র হতাশ হইয়া কহিল, কিন্তু ওকে একটা রাত্রিও আমার এখানে রাখতে ইচ্ছে হয় না মাসীমা । আচ্ছা, আজ অমাবস্তার রাত্রিটা যাক, কিন্তু কাল সকালে আর বাধা দেবেন না—বেলা দশটার মধ্যেই যেন জ্যোতিষের বাড়ি গিয়ে পৌছয়। বলিয়া অঘোরময়ীকে একটা নমস্কার করিয়া দ্রুতপদে নামিয়া গেল। সদর দরজার কাছে অন্ধকারে পিছন হইতে চাদরে টান পড়িল । মুখ ফিরাইতে কিরণময়ী চক্ষের পলকে ঝুঁকিয় পড়িয়া দুই হাত দিয়া তাহার পা চাপিয়া ধরিল— আমার বুক ফেটে যাচ্চে ঠাকুরপো, সমস্ত মিথ্যে। সমস্ত মিথ্যে। ছি ছি, এত ছোট আমাকে তুমি পারলে ভাবতে ! চুপ করুন ! অনেক অভিনয় করেচেন—আর না। বলিয়া উপেন্দ্র অসহ ঘূণায় তাহার মাখাটা সজোরে ঠেলিয়া দিতেই সে পা ছাড়িয়া দিয়া কাৎ হইয়া পড়িয়া গেল । নাস্তিক অপবিত্র, ‘ভাইপার’ ! বলিয়া উপেন্দ্র দৃকপাতমাত্র না করিয়া দ্রুতবেগে বাহির হইয়া গেল । কিরণময়ী বিদ্যুৎবেগে উঠিয়া বসিল । কি যেন তাহাকে চীৎকার করিয়া বলিতে গেল, কিন্তু গলা দিয়া স্বর ফুটিল না। শুধু উন্মুক্ত দরজার বাহিরে অন্ধকারে চাহিয়া স্বহিল এবং চোখ দিয়া আগুন ছড়াইয়া পড়িতে লাগিল । অনেকদিন পূৰ্ব্বে ঠিক এইখানে দাড়াইয় তাহার দুই চোখে এমনি উন্মত্ত চাহনি, এমনি প্রজ্জলিত বহ্নিশিখা দেখা দিয়াছিল, সেদিন সতীশকে সঙ্গে করিয়া উপেন্দ্র প্রথম, দেখা দিয়া বাহির হইয়া গিয়াছিলেন । আবার অাজ শেষ বিদায়ের দিনেও তাহার বিরুদ্ধে সেই দুটি চোখের মধ্যে তেমনি করিয়াই আগুন জলিতে লাগিল। ওয়া, এৰে বোমা! এখানে এমন করে বসে কেন মা । তুই ঘরে যাচ্ছিল বুঝি কি ? বলিয়া কিরণময়ী খড়মড় কবিয়া উঠিয়া দাড়াইয়া কাহাৰ হাত ধরিয়া কহিল, একবার আমার ঘরে জায় বাছ, তোকে স্থটাে কথা বলে ቖልፀቑ