প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সাবিত্রী তাহার দুই আয়ত উজ্জল চক্ষ সতীশের মুখের উপর নিবন্ধ করিয়া মুহূৰ্ত্তকাল পরেই হাসিয়া উঠিল, ছেলেমাচষের মত মাথা নাড়িয়া কণ্ঠস্বরে অনিৰ্ব্বচনীয় লোহাগ ঢালিয়া দিয়া বলিল, না বলতে পারেন না--কেন বলুন ত? অকস্মাৎ সতীশের মাথায় যেন ভূত চাপিয়া গেল। তাহার বুকের রক্ত তোলপাড় করিয়া উঠিল; সে তৎক্ষণাৎ গাঢ়-স্বরে-বলিয়া ফেলিল, কেন জানিনে সাবিত্রী কিন্তু তুমি রোধে দিলে খাব না বলা আমার পক্ষে শক্ত। শক্ত ? আচ্ছা, সে একদিন দেখা যাবে। ঐ যা:–রাখালবাবুর পাশ-বালিশটা রোদে দিতে ভুলেচি, বলিয়াই চক্ষের নিমেষে সে ঘরের বাহির হইয়া গেল । একটা কথা শুনে যাও সাবিত্রী, বলিয়াই সহসা সতীশ সম্মুখে ঝুঁকিয়া পডিয়া হাত বাড়াইয়া তাহার অঞ্চলের ক্ষুদ্র এক প্রান্ত ধরিয়া ফেলিল। সাবিত্র দুই চক্ষে বিদ্যুৎ-বর্ষণ করিয়া, ছি! আসচি। বলিয়া এক টান মারিয়া নিজেকে মুক্ত করিয়া ক্রতপদে অদভ হইয়া গেল। হঠাৎ কি যেন একটা কাণ্ড ঘটিয়া গেল। তাহার এই অকস্মাৎ সত্রাস পলায়ন, এই চাপা গলার আসচি", এই চোখের বিদ্যুৎ বজ্রান্ত্রির মত সতীশের সমস্ত দুৰ্ব্ব দ্ধিকে এক নিমিষে পুড়াইয়া ভস্ম কবিয়া ফেলিল। কুৎসিত লজ্জার ধিক্কারে তাহার সমস্ত শরীর শূল-বিন্ধ সৰ্পের মত গুটাইয় গুটাইয়া উঠিতে লাগিল। তাঙ্গর মনে হইল, ইহজন্মে সে আর সাবিত্রীকে মুখ দেখাইতে পরিবে না এবং পাছে কোনো প্রয়োজনে সে আবার আসিয়া পড়ে, এই আশঙ্কায় সে তৎক্ষণাৎ একখানা র্যাপার টানিয়া লইয়া ঝড়ের বেগে বাহির হইয়া পড়িল । তিন-চারিটা সিড়ি বাকী থাকিতে সতীশ উপর হইতে সাবিত্রীর গল! আবার শুনিতে পাইল । সে রান্নাঘর হইতে ছুটিয়া আসিয়া মুখ বাড়াইয়া ভাকিয়া বলিতেছিল, একেবারে খাবার খেয়ে বেড়াতে যান বাবু, নইলে ফিরে আসতে দেরি হলে সমস্ত নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু যেন শুনিতেই পাইল না, এইভাবে সতীশ উৰ্দ্ধশ্বাসে বাহির হইয়া গেল । পরদিন সকালবেলা সাবিত্রী যখন রান্নার কথা জিজ্ঞাসা করিতে আসিল, সতীশ আস্তে আস্তে বলিল, কিছু মনে ক’রে না সাবিত্ৰী । সাবিত্ৰী বিস্ময়ের স্বরে প্রশ্ন করিল, কি মনে করব না ? সতীশ ঘাড় ছেট করিয়া চুপ করিয়া রহিল । সাবিত্রী মুছ হাসিয়া বলিল, বেশ যা হোক! আমার সময় নেই—কি রান্না হবে বলুন। - আমি জানিনে—তোমার যা ইচ্ছে । আচ্ছা, বলিয়া সাবিত্ৰী চলিয়া গেল, দ্বিতীয় প্রশ্ন করিল না। $o