প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


wo সেই রাত্রেই ঝড়-জল কমিয়া গেল। সারাদিনই অবিশ্রান্ত মাতামাতি করিয়া মত্ত সিন্ধু ভোরের দিকে শাস্ত হইয়া আসিল । কিন্তু উপরের আকাশ প্রসন্ন হুইল না—মুখ ভারী করিয়া রছিল। - সকালে ক্ষণকালের জন্ত স্বর্ধ্যোদয় হুইল বটে, কিন্তু স্বর্ধেদেব এই জাহাজের ভয়াওঁ অৰ্ধস্থত যাত্রীদিগকে বাস্তবিক সাত্বনা দিয়া গেলেন, কিংবা চোখ রাঙাইয়া অন্তৰ্দ্ধান হইলেন, নিশ্চিত বুঝা গেল না। . এমনি সময়ে দিবাকর বাহিরে আসিয়া একটা ক্যাম্বিসের আরাম-চৌকির উপর কাৎ হুইয়া শুইয়া পড়িল। কি জানি কেন, আত্মপ্পানির তুষানল আজ তাহাকে আর তেমন করিয়া দগ্ধও করিতেছিল না। লজ্জার বারিধিও আজ তত দুস্তর বোধ হইল না—কোথায় যেন নীল রঙের গাছপালায় ঘেরা একটা অস্পষ্ট কুল ঝাপসা হইয়া চোখে পড়িতে লাগিল। বুকের অসহ বোঝাট এইভাবে যখন হাঙ্ক হইয়া আসিয়াছে, তখন স্থির হইয়া বলিয়া দিবাকর আর একবার কিরণময়ীর তর্কটার উপরে নিজের প্রবৃত্তির দাগ বুলাইয়া লইতে প্রবৃত্ত হইল। কাল রাত্রে কিরণময়ী এই বলিয়া তর্ক করিয়াছিল যে, আমরা যথার্থ অন্যায় তখনই করি, যখন কাহাকেও তাহার স্থায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করি! স্বতরাং, কোনো কাজে প্রবৃত্ত হুইবার পূৰ্ব্বে ইহাই দেখা প্রয়োজন যে, কাহারো সত্যিকার অধিকারে হাত দিতেছে কি না। আবার এ অধিকার বাহিরের দিকে যেমন, ভিতরের দিকেও ঠিক ঙেয়নি। নিজের উপরেও নিজের একটা সত্য অধিকার আছে। নিজের বলিয়া সে কাহারো চেয়ে তুচ্ছ নয়। সে অধিকারেও বাহিরের কাহারে হস্তক্ষেপ-সহ করা নিজের উপরে অন্যায় করা। এই আমার কথা। . - - • . . . . ক্ষণকাল স্থির থাকিয় সে আরও বলিয়াছিল, আমরা চুরি, ডাকাতি প্রভৃত্তি করিয়া যেমন পরের অধিকারে হাত দিয়া অন্যায় করি, মাতালকে পয়সী যোগাইয়াণ্ড ঠিক তাই করি। কেন না, সেখানে তাহার ভাল থাকিবার অধিকারে হাত দিই। : দিবাকর চুপ কৰিয়া শুনিতেছিল দেখিয়া কিরণময়ী পুনরায় কহিয়াছিল, যদিও সামাজিক লোকের এই অনধিকার অত্যন্ত ব্যাপক এবং কোথায় ইহার সীমারেখা কোথায় পা দিলে অনধিকার প্রবেশ হবে না, এই নিয়ে সংসারে অনেক বস্থ, অনেক মতভেদ, তবুও সীমা যে একটা আছেই সে বিষয়ে কারে সন্দেহ নেই। এই সীমা অতিক্রম করবার ক্ষমত কারও নেই, সমাজেরও না। সমাজ এই সীমা অতিক্রম २éथ