প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ । জ্যোতিষ কহিল, তোমাকে বয়স কমাতে হবে না মা, কিন্তু ছ'দিন সবুর করতে হবে। আমি ভাল বামুনের ছেলে এনে দেব, তোমাকে মোসলমান খৃষ্টানের ঘরে খুজে বেড়াতে হবে না । জগৎতারিণী রাগিয়া বলিলেন, তুষ্ট আরও সবুর করতে বলিস জ্যোতিষ ? জ্যোতিষ জবাব দিল, দোষ ত আমার নয় মা, যে সবুর করতে বলায় অপরাধ হবে । দোষ তোমার এবং বাবার। আমি ত ছিলুম বিদেশে । এ-কথা যে সত্য, তাহা জগৎতারিণী মনে মনে বুঝিলেন, কিন্তু সৎ-ব্রাহ্মণসস্তান কোথায় কেমন জুটিবে তাহাও ভাবিয়া পাইলেন না। বললেন, যা ভালো বুকিস্ কর বাছ, কিন্তু আমি কিছুর মধ্যে নেষ্ট ত আগে থেকে বলে দিয়ে যাচ্ছি, বলিয়া ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কাজে চলিয়া গেলেন । প্রায়শ্চিত্ত করিয়া জ্যোতিব পিতার শ্রাদ্ধ করিল। ইহার অনিতকাল পরেই পাত্র জুটিল একজন বিলাত-ফেরত বাঙালী সাহেব । ব্যারিস্টারী পাশ করিয়া তিনি বছর-দুই পূৰ্ব্বে দেশে ফিরিয়াছিলেন। শশাঙ্কমোহনের রঙটা নেটিভ, মেজাজটা ব্রিটিশ—তিনি বাঙলা বলিতেন অশুদ্ধ, ইংরাজী বলিতেন ভুল। অল্পদিনেই তাহার অনিয়মিত আসা-যাওয়াটা নিয়মিত এবং সরোজিনীর প্রতি মনের ভাবটা অস্পষ্ট হইতে স্বম্পষ্টতর হইয়া উঠিল। জগৎতারিণী পর্দার আড়াল হইতে ভাবি জামাতাকে অবলোকন করিয়া ক্রোধে জলিয়া উঠিলেন, এবং সেই আক্রোশ মিটাইলেন মেয়ের উপর। তাকে নিভৃতে ডাকিয়া তৎসনা করিলেন, তুই বেহায়ার মত যার তার সামনে বার হ’স কেন বল ত ? সরোজিনী লজ্জায় সঙ্কুচিত হইয়া চুপ করিয়া দাড়াইয়া রছিল। ক্রুদ্ধ জননী জার কিছু না বলিয়া দ্রুতপদে অন্যত্র চলিয়া গেলেন। অতঃপর শশাঙ্কমোহন অনেকবার আসিলেন গেলেন, কিন্তু যাহার জন্য যাতায়াত তাহার দেখা পাইলেন না। মায়ের অনুশাসন স্মরণ করিয়া সরোজিনী অত্যন্ত সতর্ক হইয়া অস্তরালে রহিল। জ্যোতিষ লক্ষ্য করিয়া একদিন ভগিনীকে কছিলেন, সরো, আজকাল তুই আমন পালিয়ে থাকিস কেন রে ? সরোজিনী মুখ নীচু করিয়া অফুটকণ্ঠে কহিল, মা—আর কিছুই বলিতে হইল না, জ্যোতিষ নীরবে চলিয়া গেলেন । এ-বাড়িতে ঐ একটা অক্ষরই যথেষ্ট । প্রায় মাস-দুই পরে একদিন সকালে সেই পাত্রটির তরফ হইতেই প্রস্তাব লইয়া জ্যোতিৰ মায়ের কাছে উপস্থিত হইয়া রীতিমত বকুনি খাইল । ছেলেকে চুপ করিয়া থাকিতে দেখিয়া মা কিঞ্চিত কোমল হইয়া বলিলেন, আচ্ছা, তোরাও ত বিলেতে ছিলি বাছ, কিন্তু ওই রকমটি হয়েচিস্ কি ? ኟማእዩ