প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/২৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ . সরোজিনী পুনরায় কহিল, আচ্ছা, দাদা যে বললেন, পাঁচ-ছদিন পরে কলকাতায় যাবেন, তখন আমাদের দেখবে কে ? সতীশ জিজ্ঞাসা করিল, ক’দিনের জন্য যাবেন ? সরোজিনী কহিল, অন্ততঃ সাত-আটদিন তাকে সেখানে থাকতেই হবে । সতীশ কহিল, তা হলে সে ব্যবস্থা তিনিই করে যাবেন। আর এত ভয়ই বা কি জন্যে ? আপনারা ত আমাদের হিন্দুর ঘরের মত অস্বৰ্য্যম্পপ্ত নন যে, বাড়িতে পুরুষমায়ুধ না থাকলেই মুস্কিলে পড়ে যাবেন! আপনারাই বরঞ্চ কত পুরুষের— সরোজিনীর মুখ পলকের জন্য আরক্ত হইয়। উঠিল, কহিল কি আমরা করি তুনি ? পুরুধের কান কেটে নিই? না হন্দুর ঘরের মেয়ে নই আমরা ? সতীশ অপ্রতিভ হইয়। তাড়াতাড়ি কথাটা সারিয়া লইবার জন্য মুখ তুলিয়াই দেখিতে পাহল, সম্মুখে শশাঙ্কমোহন ব্যারিস্টারকে লহয়। জ্যোতিষ ঘরে ঢুকিতেছেন। অন্যদিনের মত আজও তিনি স্টেশনে বেড়াহতে গিয়া দেখেন ব্যারিস্টার সাহেব ফাস্ট ক্লাস কামরা হইতে অবতরণ করিতেছেন। ঘরে পা দিয়াই শশাঙ্কমোহন সপ্লোজিনীর দিকে হাত বাড়াইয়া দ্রুত অগ্রসর হইয়। করমর্দন করিয়া কুশল প্রশ্ন করিলেন এবং নিজের এইরূপ অকস্মাৎ আগমনের কৈফিয়ৎস্বরূপে কহিলেন, কেন যে সহসা কলিকাতা তাহার অসহ বোধ হইল, কেন যে কিছুমাত্র চিন্তা না করিয়া স্টেশনে আসিয়৷ দেওঘরের ফাস্ট ক্লাস টিকিট কিনিয়া বসিলেন, তাহার হেতু নিজেই এখন পৰ্য্যন্ত জানেন না। অতঃপর নিকটে একটা চৌকি টাiনয়া লইয়া বসিয়া ব্যাখ্রস্টার সাহেব অনগল বাকয়া যাহতে লাগিলেন, কিন্তু সরোজনীর পাংশু মুখ দিয়া দুই-একটা সাধারণ কথা ছাড়া কথাই বাহর হইল না । মিনিট-দশেক পরে সতীশকে উঠিয়া যাইতে দেখিয় তাহার দৃষ্টি আকৃষ্ট হওয়ায় ঘাড়টা একটু কাৎ করিয়া বিস্ময়ের কণ্ঠে সরোজিনীকে কহিলেন, এ কে কোথায় দেখেচি বলে মনে হচ্চে না । সরোজিনীর পাংশু মুখ প্রদীপ্ত হইয়া উঠিল । সংক্ষেপে কহিল, বলতে পারি না কোথায় দেখেচেন । অনতিকাল পরে জগৎ তারিণী খাবার দিয়া সতীশকে যখন ডাকিতে পাঠাইলেন তখন দেখা গেল, সতীশ কাহাকেও কোন কথা না কহিয়া চলিয়া গিয়াছে। ইহার পরে তিন দিন পৰ্য্যন্ত সতীশের আর দেখা না পাইয়া জগৎতারিণী ভিতরে ভিতরে ক্রুদ্ধ ও উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিলেন । ছেলেকে নিভৃতে ডাকিয়া কড়া করিয়া প্রশ্ন করিলেন, লোকটি আর কতদিন এখানে থাকবে জ্যোতিব ? বরঞ্চ ኟግሆ