প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৩২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छब्रिजशैन ললাটের উত্তাপ অনুভব করিয়া চমকিয়া উঠিল। বেহারী ঘরে ঢুকিয়াই বলিল, ম, তোমার বিছানাটা— সাবিত্রী পাশের ঘরটা হাত দিয়া দেখাইয়া কহিল, এই ঘরটাতেই জামায় বিছানা হবে ৰেহারী, বাবুর জয়টা কিছু বেশী বোধ হচ্ছে—আমি এই পাশের ঘরেই শোবো। মাঝের দরজাটা খোলা থাকবে—তোমাকেও আজ এই ঘরের মেজেতেই ওতে হবে। সতীশকে কহিল, আর রাত জেগো না, একটু ঘুমোবার চেষ্টা কয়, বলিয়া ধীরে ধীরে দরজাটা বন্ধ করিয়া দিয়া গেল । অল্পকাল পরে সামান্ত কিছু আহার করিয়া ফিরিয়া আসিয়া সে পাশের ঘরেই একটা মাদুর বিছাইয়া গুইয়া পড়িল এবং ক্লান্ত চক্ষু দুটি তাহার দেখিতে দেখিতে গভীর নিত্রায় মূদ্রিত হইয়া গেল। - অতি প্রত্যুষেই ঘুম ভাঙ্গিতে সাবিত্রী ধড়ফড় করিয়া উঠিয়া এ-ঘরে আসিয়া দেখিল, শষ্যার উপর সতীশ যাতনায় ছটফট, করিতেছে। কপালে হাত দিয়া দেখিল উত্তাপে পুড়িয়া যাইতেছে । তাহার শীতলম্পর্শে সতীশ চোখ মেলিল— ছ'চক্ষু জবাফুলের মত রাঙা । * জরের অবস্থা দেখিয়া সাবিত্ৰী ভয়ে সেই শয্যার উপরেই ধপ করিয়া বসিয়। পড়িল, জিজ্ঞাসা করে তাহার এ ক্ষমতা রহিল না। সতীশ তাহার হাতটা টানিয়া লইয়া নিজের তপ্ত ললাটের উপর চাপিয়া ধরিয়া বলিল, আমি কালকেই টের পেয়েছিলাম। কালই আমি বেহারীকে বলেচি—এই জর আমার শেষ জর—এবার আমি আর বঁচিব না। জরের তীব্র যাতনায় সে এমন করিয়া হাপাইয়া হাপাইয়া এই কথাগুলি কহিল যে, সাবিত্রী তাহাকে সাত্বনা দিবে কি, অদম্য কান্নায় তাহার নিজেরই কণ্ঠরোধ হইয়া গেল ; এবং সমস্ত রাজি নিশ্চিন্ত হইয়া ঘুমাইয়াছে বলিয়া অমুশোচনায় তাহার নিজের মাথাটা ছেচিয়া ফেলিতে ইচ্ছা করিতে লাগিল । সতীশ কহিল, আমার একটা সাহস যে তুমি আমার কাছে আছ, বলিয়া সে পাশ ফিরিয়া শুইল । আজ সে-ই তাহার সকলের বড় অবলম্বন, কাল রাত্রে যাহাকে সে অভিমানের ম্পৰ্ধায় বলিয়াছিল, তুমি আমার কে! কিন্তু ক্ষণকালের জন্ত সাবিজীর এ সাধাটুকুও রহিল না যে, বেহারীকে ভাকিয়া ডাক্তার জানিতে বলে। শুধু সতীশের একটা উঙ্কিত বাহুর উপর হাত রাখিয়া পাথরের মূৰ্ত্তির মত বসিয়া রহিল। ক্ষণেক পরেই সতীশ আবার এ-পাশে ফিরিল। আবার সাবিত্রীর হাতটা wo