প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য সংগ্ৰহ রছিল না। মিনিট-দুই এইভাবে কাটিবার পরে সাবিত্রী সহসা মুখ তুলিয়া বলিল, রাত হ’লো, বাসায় যাবে না ? সতীশ শুষ্ক-গলায় বলিল, না গেলে থাকব কোথায় ? এইখানেই থাকবে । না যেতে পার ত কাজ নেই-মার্সি এখনও জেগে আছে, আমি তার বিছানাতেই গুতে পারব—বলিয়া সাবিত্ৰী সতীশের মুখের দিকে চাহিয়া ब्रहिळा ! একমুহূর্তের জন্য সতীশ নিৰ্ব্বাক হইয়া বহিল, কিন্তু পরক্ষণেই প্রবল চেষ্টায় নিজেকে সংবরণ করিয়া লইয়া একেবারে দাড়াইয়া উঠিয়া বলিল, না:–চললাম । আচ্ছা আর একটু বোসো, বলিয়া সাবিত্রী উঠিয়া গিয়া সতীশের জুতা জোড়াটা বাহির হইতে তুলিয়া আনিল, এবং মাচল দিয়া পা মুছাইয়া দিয়া জুতার ফিতা বাধিয়া দিতে দিতে আস্তে আস্তে কহিল, বাসার লোক যদি জানতে পারে ? কেমন করে জানবে ? আমিই যদি বলে দিই ! কি বলবে তুমি—বলবার ত কিছু নেই। সাবিত্রী আবার একটু হাসিয়া বলিল, কিছু নেই ? সত্যি বলচো ? সতীশ চুপ করিয়া রহিল। সাবিত্রী মৃদুকণ্ঠে কহিল, বলবার কথা না থাকলে কি জানি, আজ তোমাকে আমি ছেড়ে যেতে পারতুম কি না। বলিয়া হঠাৎ চুপ করিয়া গেল। কিন্তু পরক্ষণেই প্রবলবেগে মাথা নাড়িয়া বলিয়া উঠিল, না, তুমি বাসায় যাও। কিন্তু এই দুষ্টুবুদ্ধি যদি না ছাড় ত একদিন সমস্ত প্রকাশ করে দেব তা বলে দিচ্চি । এ কি রহস্য । ইহার ভিতরের কথাটা ঠিক ধরিতে না পারিয়া সতীশ ক্ষণকাল স্তন্ধ হইয়া দাড়াইয়া থাকিয়া বলিল, বলিলেই বা । বাসার লোক ত আমার গারজেন নয় । সাবিত্ৰী কহিল, নয় জানি। কিন্তু মালি আমার সে ভারও অনায়াসে নিতে পারবে। তার জিভকে ঠেকিয়ে রাখবে কি দিয়ে ? মোক্ষদার ইঙ্গিতে সতীশ মনে মনে ভয় পাইলেও মুখে বলিল, টাকা দিয়ে। সাবিত্ৰী বলিল, তাতে শুধু টাকার অপব্যয় হবে, কাজ হবে না। তা ছাড়া মাসিকেই না হয় টাকায় বশ করবে, কিন্তু আমাকে বশ করবে কি দিয়ে ? সতীশ ফিস ফিল করিয়া বলিল, ভালবাসা দিয়ে । সাবিত্রীর ওষ্ঠপ্রাস্তে কঠিন চাপ-হাসির আভাস দেখা দিল, কহিল, এই নিয়ে চারবার হলো ।