প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরিত্রহীন পরেই হারান হাত বাড়াইয়া উপেন্দ্রকে স্পর্শ করিয়া কাছে আসিতে ইশারা করিয়া অতি ক্ষীণকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিলেন, সাত-আট বছর পরে দেখা, এর মধ্যে একবারও কি তোমার এখানে আসা হয়নি ? * ইহার মধ্যে অনেকবারই উপেন্দ্রকে আসিতে হইয়াছিল, কিন্তু তাহা স্বীকার করিতে পায়িলেন না। বলিলেন, অস্থখটা কি হারানা ! হারান কহিলেন, জর, কালি ইত্যাদি । এখন ও-প্রসঙ্গের আর প্রয়োজন নেই, সমস্তই শেষ হয়েচে । ওখারে সিন্দুকের উপর উপৰিষ্ট সতীশ মনে মনে মাখা নাড়িল । হারান পুনশ্চ বলিলেন, আমারও তোমার কথা মনে পড়েনি, সময়ে মনে পড়লে হয়ত কাজ হতো। ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া নিজেই বলিলেন, কাজ আর কি হতো, তা নয়, খাৰু গে ও সব কথা, একটা কাজ কোরো ভাই, আমার হাজার-লুই টাকার লাইফইনসিওর আছে, আর আছে এই ভাঙ্গ বাড়িটা, তুমি উকীল, একটা লেখাপড়া করে দাও, যেন সব জিনিসের উপর তোমারি পুরো হাত থাকে। তার পরে রইলে তুমি, আর আমার বুড়ো মা । উপেন্দ্র বলিলেন, আর তোমার স্ত্রী ? আমার স্ত্রী কিরণ ? ই, ও ত অাছেই । ওর বাপ-মা কেউ বেঁচে নেই, ওকেও দেখো । উপেন্দ্র নির্নিমেষ-চোখে মুমুধুর মুখের পানে চাহিয়া ভাবিতে লাগিলেন। সতীশ পকেট হইতে ঘড়ি বাহির করিয়া দাড়াইয়া উঠিয়া বলিল, উপনদী, রাত্রি দশটা বেজে গেছে, ওখানে ওঁরা বোধ হয় ব্যস্ত হচ্চেন । হারান চাহিয়া দেখিয়া বলিলেন, এটি কে উপীন ? আমার বন্ধু, একসঙ্গেই কলকাতায় এসেচি। এখন তবে আসি হায়ানা, কাল সকালেই আবার আসব। না, কাল নয়, একেবারে কাজ তৈরী করে পরশু এলো । যা-কিছু আমার আছে, আর যা-কিছু আমার বলবার আছে, সেইদিনেই বলে দেব, কোথায় আছ এখানে ? সহরের একধারে একজন বন্ধুর ওখানে উঠেচি । যাইতে উষ্ঠত হইলে হায়ান ভাকিয়া বলিলেন, কিরণ ? - উপেন্দ্র তাড়াতাড়ি বাধা দিয়া বলিলেন, থাকৃ হারানদী | সতীশের পকেটে দেশলাই আছে, স্বচ্ছন্দে নেমে যেতে পারব । তিনি বোধ করি কাজে ব্যস্ত আছেন। তজুত্তরে হারান কি যে বলিলেন, বোঝা গেল না । brt