প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/১০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথের দাবী কটুকণ্ঠে প্রশ্ন করিলেন, কিন্তু এইবার ঘরের বাইরে তার অসতী জীবনটাকে বোধ করি গৌরবের জীবন বলতে পারবেন ? কিন্তু আশ্চর্ঘ্য এই যে, এত বড় কদর্ঘ্য বিদ্রপেও কাহারও মুখে কোনরূপ চাঞ্চল্য, প্রকাশ পাইল না। স্বমিত্রা শাস্তম্বরে বলিলেন, মনোহরবাবু, আমাদের সমিতির মধ্যে সংযতভাবে কথা বলা নিয়ম । আর এ নিয়ম যদি না মানতে পারি ? আপনাকে বার করে দেওয়া হবে । মনোহরবাবু যেন ক্ষেপিয়া গেলেন। জ্যা-মুক্ত শরের ন্যায় সোজা দাড়াইয়া উঠিয়া কহিলেন, আচ্ছা চললুম! গুড বাই! এই বলিয়া দ্বারের কাছে আসিয়া তাহার উন্মত্ত ক্ৰোধ যেন সহস্রধারে ফাটিয়া পড়িল। হাত পা ছুড়িয়া চীংকার করিয়া বলিতে লাগিলেন, আমি সমস্ত খবর তোমাদের জানি । ইংরেজ রাজত্ব তোমরা ঘুচাবে ? মনেও কোরো না ! আমি চাষ নই, আমি অ্যাডভোকেট। কোথায় বিচার পেতে হয়, কোথায় তোমাদের হাতে শেকল পরাতে হয় ভাল রকম জানি । আচ্ছা,—এই বলিয়া তিনি অন্ধকারে দ্রুতবেগে অদৃপ্ত হইয়া গেলেন। হঠাৎ কি যেন একটা কাণ্ড ঘটিয়া গেল । উত্তেজনা কেহই প্রকাশ করিল না, কিন্তু সকলের মুখেই যেন কি একপ্রকার ছায় পড়িল, কেবল যে লোকটা কোণে বসিয়া লিখিতেছিল, সে একবার চোখ তুলিয়াও চাহিল না। অপূৰ্ব্বত্ব মনে হইল, হয় সে সম্পূর্ণ বধির, না হয়, একেবারে পাষাণের ন্যায় নিরাকুল, নিৰ্ব্বিকার। ভারতীর মুখের চেহারাটা সে দেখিতে চাহিল, কিন্তু সে যেন ইচ্ছা করিয়াই আর একদিকে ঘাড় ফিরাইয়া রহিল। মনোহর ব্যক্তিটি যেই হোক, রাগের মাথায় এই সমিতির বিরুদ্ধে যে সকল কথা বলিয়া গেলেন তাহ অতিশয় সন্দেহজনক। এতগুলি আশ্চৰ্য্য নর-নারী কোথা হইতে আসিয়াই বা এখানে সমিতি গঠন করিলেন, কি ব| তাহার সত্যকার উদ্দেশু, হঠাৎ ভারতীই বা কি করিয়া ইহাদের সন্ধান পাইল ? অার ওই যে লোকটি টিকিটের পরিবর্তে একদিন অনায়াসে মদ কিনিয়া খাইয়া তাহারই চোখের সম্মুখে ধরা পড়িয়াছিল,—আর সকলের বড় এই নবতারা ! স্বামী ত্যাগ করিয়া দেশের কাজ করিতে আসিয়াছে, সতীত্ব রক্ষার কথা ভাবিবার এখন যাহার সময় নাই, অথচ এই লোকগুলা এত বড় অন্যায়কে শুধু সমর্থন নয়, প্রাণপণে প্রশ্রয় দিতেছে। এবং যিনি ইহাদের কত্রী, স্ত্রীলোক হইয়াও তিনি প্রকাগু সভায় এতগুলি পুরুষের সমক্ষে সতীধর্থের প্রতি তাহার একান্ত অবজ্ঞাই অসঙ্কোচে প্রকাশ করিতে লজ্জাবোধদুকও করিলেন না ! কিছুক্ষণ অবধি সমস্ত ঘরটা নিস্তব্ধ হইয়া রহিল, বাহিরে অন্ধকার, অপ্রশস্ত 26: