প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/১২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথের দাবী अशूर्व गडौद्ध श्ब्र বলিল, আজ আপনার যে কি হয়েচে জানিনে, খুব সোজ৷ কথাও কিছুতে বুঝতে পারচেন না । ভারতী বলিল, আর এমনও ত হতে পারে খুব সোজা নয় বলেই বুঝতে পায়চিনে ? বলিয়াই ফিক্‌ করিয়া হাসিয়া ফেলিল । এই হাসি দেখিয়া সে নিজেও হাসিল, তাহার সন্দেহ হইল, হয়ত ভারতী এতক্ষণ তাহাকে শুধু মিথ্যা জালাতন করিতেছিল! এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাহার মনে পড়িল, এমনিধারা সব ছোটখাটো ব্যাপার লইয়া এই খ্ৰীষ্টান মেয়েটি তাহাকে প্রথম হইতেই কেবল খোচা দিবার চেষ্টা করিয়া আসিতেছে, অথচ, ইহা বিদ্বেষ নয়, কারণ, যে কোন বিপদের মধ্যে এতবড় নি:সংশয় নির্ভরের স্থলও যে এই বিদেশে তাহার অন্ত কোথাও নাই,—এ সত্যও ঠিক স্বতঃসিদ্ধের মতই হৃদয় তাহার চিরদিনের জন্য একেবারে স্বীকার করিয়া লইয়াছে । জলের গ্লাসটায় জল ফুরাইয়াছিল, শূন্য পত্রটা অপূৰ্ব্ব হাতে করিয়া তুলিতেই ভারতী ধ্যস্ত হইয়া উঠিল, ঐ যা:-- আর জল নেই নাকি ? আছে বই কি ! এই বলিয়া ভারতী রাগ করিয়া কহিল, অত নেশা করলে কি আর মানুষের কিছু মনে থাকে ! খাবার জলের ঘটটা শিবু নীচের টুলটার ওপর ভুলে রেখে এসেচে,—আমার ও পোড়া কপাল চেয়ে দেখিনি। এখন আর ত উপায় নেই, একেবারে আঁচিয়ে উঠেই খাবেন, কি বলেন ? কিন্তু রাগ করতে পাবেন না বলে রাখচি । অপূৰ্ব্ব হাসিয়া কহিল, এতে রাগ করবার কি আছে ? ভারতী আন্তরিক অনুতাপের সহিত বলিল, হয় বৈ কি। খাবার সময় তেষ্টার জল না পেলে ভারি একটা অতৃপ্তি বোধ হয়। মনে হয় যেন পেট ভরলো না । তাই বলে কিন্তু ফেলে রেখেও কিছু উঠলে চলরে না । আচ্ছা যাবে চট্‌ করে, শিবুকে ডেকে আনবো ? অপূৰ্ব্ব তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া হাসিয়া কহিল, এর জন্যে এই অন্ধকারে যাবেন ডেকে আনতে? আমার কি কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই মনে করেন ? তাহার খাওয়া শেষ হইয়াছিল, তথাপি সে জোর করিয়া আরও দুই-চারি গ্রাস মুখে পুরিয়া অবশেষে যখন উঠিয়া দাড়াইল, তখন তাহার নিজের কেমন যেন ভারি লজ্জা করিতে লাগিল , কহিল, বাস্তবিক বলচি আপনাকে, আমার কিছুমাত্র অসুবিধে হয়নি । আমি আঁচিয়ে উঠেই জল খাবো—আপনি মিথ্যে দুঃখ করবেন না । ভারতী হাসিয়া জবাব দিল, দুঃখ করতে যাবো ? কখখনো না । আমি S X on