প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার).djvu/১৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ অপূৰ্ব্ব কহিল, নীচের বেঞ্চে বিছানা করেও ত আমি অনায়াসে গুতে পারি? ভারতী বলিল, আপনি পারলেও আমি তা দেব না। কারণ, তার দরকার নেই। আমি আপনার অস্পৃগু, আপনার দ্বারা আমার কোন ক্ষতি হতে পারে এ ভয় আমার নেই। অপূৰ্ব্ব আবেগের সহিত কহিল, আমার দ্বারা কখনো আপনার লেশমাত্র অনিষ্ট হতে পারে এ ভয় আমারও নেই। কিন্তু আপনাকে অস্পৃষ্ঠ বললে আমার সব চেয়ে বেশি দুখ হয়। অস্পৃঙ্গ কথার মধ্যে ঘৃণার ভাব আছে, কিন্তু আপনাকে ত আমি ঘৃণা করিনে। আমাদের জাত আলাদা, আপনার ছোয়া আমি খেতে পারিনে, কিন্তু তার হেতু কি ঘুণ ? এত বড় মিছে কথা আর হতেই পারে না। বরঞ্চ, এরজন্যে আপনিই আমাকে মনে মনে ঘৃণা করেন। সেদিন ভোরবেলায় যখন আমাকে অকুল সমুদ্রে ফেলে রেখে চলে আসেন, তখনকার মুখের চেহারা আমার আজও স্পষ্ট মনে আছে, সে আমি জীবনে ভুলব না ! ভারতী বলিল, আমার আর যাই কেন না ভুলুন, সে অপরাধ ভুলবেন না! কখনও না । সে মুখে আমার কি ছিল ? ঘৃণা ? নিশ্চয় ! ভারতী তাহার মুখের পানে চাহিয়া হাসিল, তার পরে ধীরে ধীরে বলিল, অর্থাৎ, মামুসের মন বোঝবার বুদ্ধি আপনার ভয়ানক সূক্ষ্ম,—আছে কি নেই! কিন্তু আর কাজ নেই, আপনি শোন । আমার রাত জাগার অভ্যাস আছে, কিন্তু আপনি আর বেশি জেগে থাকলে আমারই হয়ত বিপদের অবধি থাকবে না। এই বলিয়া সে প্রত্যুত্তরের আর অবকাশ না দিয়া র্যাকের উপর হইতে গোটা-দুই কম্বল পাড়িয়া লইয়া পাশের ছোট ঘরের ভিতরে গিয়া প্রবেশ করিল। অনতিকাল পরে ফিরিয়া আসিয়া মশারি ফেলিয়া চারিদিক ভাল করিয়া গুজিয়া দিয়া ভারতী চলিয়া গেল, কিন্তু অপুর্কর নিমীলিত চোখের কোণে ঘুমের ছায়াপাতটুকুও হইল না। ঘরের এক কোণে আড়াল-করা আলোটা মিট্‌ মিটু করিয়া জলিতেছে, বাহিরে গভীর অন্ধকার, রাত্রি স্তন্ধ হইয়া আছে— হয়ত, সে ছাড়া কোথাও কেহ জাগিয়া নাই, কখন যে ঘুম আসিবে তাহার কোন স্থিরতা নাই, তবুও এই জাগরণের মধ্যে নিদ্রাবিহীনতার বিন্দুমাত্র অস্তিত্বও সে অনুভব করিল না। তাহার সকল দেহ-মন যেন বর্ণে বর্ণে উপলব্ধি করিতে লাগিল এই ঘরে, এই শয্যায়, এই নীরব নিশীথে ঠিক এমনি চুপ করিয়া শুইয়া থাকার মত স্বন্দর মধুর বস্তু আর ত্ৰিভুবনে নাই। এমন একান্ত ভাবনা-হীন নিশ্চিন্ত বিশ্রামের আনন্দ সে যেন আর ১২ •