প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈকুণ্ঠের উইল গৃহিণী কহিলেন, তুমি। আবার কে ? আমাকে রাগ করতে কখনও দেখেচ ? এ তবে তোমার কি-রকম কথা শুনি ? ছেলেবেলা পাশ-ফেল সবাই হয়। তাই বলে ইস্কুল ছাড়িয়ে দেবে ? বৈকুণ্ঠ তখন গোকুলকে অন্যত্র পাঠাইয়া দিয়া হাসিমুখে বলিলেন, ছোটবোঁ, রাগ আমি করিনি । তোমার বড় ছেলেকে আজ বড় আহলাদ করেই আমি দোকানে নিয়ে যাচ্ছি। ছোটছেলে তোমার কখনও জজিয়তি পাবে কিনা, বাড়ুয্যেমশায়ের মত সে ভরসা তোমাকে দিতে পারলুম না ; কিন্তু আমার অবর্তমানে গোকুলের ওপর যে তোমরা নিৰ্ভয়ে ভর দিতে পারবে, সে আমি তোমাকে নিশ্চয় বলে দিচ্চি। স্বামীর অবিদ্যমানতার কথায় ভবানীর চোখের কোণ একমুহূর্তেই আদ্র হইয়া উঠিল । বলিলেন, সে অামি জানি । কিন্তু গোকুল যে বড় সোজা মাতুষ—ও কি তোমার ব্যবসার ঘোর-প্যাচ বুঝতে পারবে ? ওকে হয়ত সবাই ঠকিয়ে নেবে। বৈকুণ্ঠ হাসিয়া কহিলেন, সবাই ঠকাবে না। তবে কেউ কেউ ঠকিয়ে নেবে, সে-কথা সত্যি । তা নিক, কিন্তু ও ত কারুকে ঠকাবে না ? তা হলেই হবে । মা-লক্ষ্মী ওর হাতে আপনি এসে ধরা দেবেন —বলিতে বলিতে বৈকুণ্ঠের নিজের চোখওসজল হইয়া উঠিল। তিনি নিজেও খাটি লোক, কিন্তু মূলধনের অভাবে অনেকদিন অনেক কষ্টই ভোগ করিয়াছেন। এখন যদি-বা কিছু সংগ্ৰহ হইয়াছে ; কিন্তু সময়ও ঘনাইয়া আসিয়াছে। সে শক্তি-সামর্থ্যও আর নাই । তাড়াতাড়ি চোখের উপর হাতটা বুলাইয়া লইয়া হাসিয়া বলিলেন, গিনী, এই বয়সে গোকুল যত বড় লোভ কাটিয়ে বেরিয়ে এসেচে, সে ষে কত শক্ত, তা তুমি হয়ত বুঝতে পারবে না। যে এ পারে, তার ত ব্যবসার ঘোর-প্যাচ চৌদ্দ আনা শেষ হয়ে গেছে। শুধু বাকী দুটো জানা আমি তাকে শিখিয়ে দিয়ে যাব। কিন্তু লোকে কি বলবে ? লোকের কথা ত জানিনে ছোটবোঁ। আমি শুধু আমাদের কথাই জানি। আমি জানি ; ওর হাতে তোমাদের সঁপে দিয়ে আমি নিৰ্ভয়ে ছ'চক্ষু বুজতে পারব। ভবানী নিজেও কিছুদিন হইতে লক্ষ্য করিতেছিলেন, তার স্বামীর স্বাস্থ্য যেন দিন দিন ভাঙ্গিয়া পড়িতেছিল। র্তার শেষ কথায় একটা আসন্ন বিপদের বার্তা অনুভব করিয়া কাদিয়া ফেলিয়া বলিলেন, আচ্ছা নিয়ে যাও। বলিয়া নিজে গিয়া গোকুলকে ভাকিয়া আনিয়া স্বামীর হাতে সঁপিয়া দিলেন। তাহার মুখ চুম্বন করিয়া বলিলেন, ওঁর সঙ্গে দোকানে যাও বাবা । তুমি মানুষ হলেই তবে আমরা দাড়াতে পারব। Şe a