পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করার সময় সমস্যা ছিল।
ষোড়শী

 এককড়ি । ( করজোড়ে ) সমস্তই ত হুজুরের রাজ্য।

 জীবানন্দ । রাজ্যের খবর জানতে চাইনি। কাছারিটার খবর জানো ?

  এককড়ি । জানি হুজুর। ওই যে ।

 জীবানন্দ । তুমি কে ?

 [এককড়ি ও বিশ্বম্ভর উভয়ে হাটু গাড়িয়া ভূমিষ্ঠ প্ৰণাম করিয়া উঠিয়া দাড়াইল । ]

 এককড়ি । হুজুরের নফর এককড়ি নন্দী।

 জীবানন্দ । ওহে, তুমিই এককড়ি, চণ্ডীগড়-সাম্রাজ্যের বড়কর্তা ? কিন্তু দেখ এককড়ি, একটা কথা বলে রাখি তোমাকে । চাটুবাক্য অপছন্দ করিনে সত্যি, কিন্তু তার একটা কাণ্ডজ্ঞান থাকাটাও পছন্দ করি । এটা ভুলো না। তোমার কাছারির তসিল কত ?

 এককড়ি। অজ্ঞে, চণ্ডীগড় তালুকের আয় প্রায় হাজার-পাঁচেক টাকা ।

 জীবানন্দ । হাজার-পাঁচেক ?—বেশ ।

 [ বাহকেরা পালকী নীচে নামাইল । জীবানন্দ অবতরণ, করিলেন না, শুধু পা দুটা বাহির করিয়া ভূমিতলে রাখিয়া সোজা হইয়া কহিলেন ] বেশ । আমি এখানে দিন পাঁচ-ছয় আছি, কিন্তু এরই মধ্যে আমার হাজার-দশেক টাকা চাই এককড়ি। তুমি সমস্ত প্রজাদের খবর দাও যেন কাল তারা এনে কাছারিতে হাজির হয় ।

 এককড়ি । যে আজে । হুজুরের আদেশে কেউ গরহাজির থাকবে না ।

 জীবানন্দ । এ গাঁয়ে দুষ্ট বজাত প্রজা কেউ আছে জানো ?

 এককড়ি। আঞ্জে, না তা এমন কেউ—শুধু তারাদাস চক্কোত্তি—তা সে আবার হজুরের প্রজা নয় ।

 জীবানন্দ । তারাদাসটা কে ?

 এককড়ি । গড়চণ্ডীর সেবায়েত ।

 জীবানন্দ। এই লোকটাই কি বছর-দুই পুৰ্ব্বে একটা প্রজা-উৎখাতের মামলায় আমার বিপক্ষে সাক্ষী দিয়েছিল ?

 এককড়ি । ( মাথা নাড়িয়া ) হুজুরের নজর থেকে কিছুই এড়ায় না। আজ্ঞে, এই সেই তারাদাস ।

 জীবানন্দ । হু । সেবার অনেক টাকার ফেরে ফেলে দিয়েছিল । এ কতখানি জমি ভোগ করে ?

 এককড়ি । ( মনে মনে হিসাব করিয়া ) ষাট-সত্তর বিঘের কম নয় ।