পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করার সময় সমস্যা ছিল।

ষোড়শী



 জীবানন্দ। তোমাদের আজ টাকা দেবার কথা। টাকা এনেচ? (ষোড়শীর কণ্ঠস্বর ফুটিল না ) আনোনি জানি। কিন্তু কেন?

 ষোড়শী। আমাদের নেই।

 জীবানন্দ। না থাকলে সমস্ত রাত্রি তোমাকে পাইকদের ঘরে আটকে থাকতে হবে, তার মানে জানো!

 [ষোড়শী দ্বারের চৌকাঠটা দুই হাতে সবলে চাপিয়া ধরিয়া চোখ বুজিয়া মূর্চ্ছা হইতে আত্মরক্ষার চেষ্টা করিতে লাগিল। এই ভয়ানক বিবর্ণ মুখের চেহারা জীবানন্দের চোখে পড়িল, মিনিট-খানেক সে কেমন যেন আচ্ছন্নের ন্যায় বসিয়া রহিল। তার পরে বাতির আলোটা হঠাৎ হাতে তুলিয়া লইয়া ষোড়শীর কাছে গেল। আলোটা তাহার মুখের সম্মুখে ধরিয়া একদৃষ্টে ষোড়শীর গৈরিক বস্ত্র, তাহার এলায়িত রুক্ষ কেশভার, তাহার পাণ্ডুর ওষ্ঠাধর, তাহার সবল স্বস্থ ঋজু দেহ, সমস্তই সে যেন দুই বিস্ফারিত চক্ষু দিয়া নিঃশব্দে গিলিতে লাগিল। এইভাবে কিছুক্ষণ কাটিয়া গেলে পর ]

 জীবানন্দ। ( ফিরিয়া গিয়া আলোটা রাখিয়া দিয়া মদের বোতল হইতে কয়েক পাত্র উপর্য্যুপরি পান করিয়া ) তোমার নাম ষোড়শী, না? ( ষোড়শী নীরব ) তোমার বয়স কত? ( কোন উত্তর না পাইয়া কঠিন-স্বরে ) চুপ করে থেকে বিশেষ কোন লাভ হবে না, জবাব দাও।

 ষোড়শী। ( মৃদু-স্বরে ) আমার বয়স আটাশ।

 জীবানন্দ। বেশ। তা হলে খবর যদি সত্য হয় ত, এই উনিশ-কুড়ি বৎসর ধরে তুমি ভৈরবীগিরি করচ; খুব সম্ভব অনেক টাকা জমিয়েচ। দিতে পারবে না কেন?

 ষোড়শী। আপনাকে আগেই ত জানিয়েচি আমার টাকা নেই?

 জীবানন্দ। না থাকলে আরও দশজনে যা করচে তাই কর। যাদের টাকা আছে তাদের কাছে জমি বাধা দিয়ে হোক, বিক্রী করে হোক দাও গে।

 ষোড়শী। তারা পারে, জমি তাদের। কিন্তু দেবতার সম্পত্তি বাধা দেবার, বিক্রী, করবার ত আমার অধিকার নেই।

 জীবানন্দ। ( হঠাৎ হাসিয়া ) নেবার অধিকার কি ছাই আমারই আছে? এক কপর্দ্দকও না। তবুও নিচ্চি, কেন না আমার চাই। এই চাওয়াটাই হচ্চে সংসারের খাঁটী অধিকার, তোমারও যখন দেওয়া চাই-ই, তখন—বুঝলে? ( কিছু পরে ) যাক, এত রাত্রে কি একা বাড়ি যেতে পারবে? যাদের সঙ্গে তুমি এসেছিলে তাদের আমি সঙ্গে দিতে চাইনে।

 ষোড়শী। ( সবিনয়ে ) আপনার হুকুম হলেই যেতে পারি।

১১