প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহাতছাজী মহাত্মাজী আজ রাজার বর্মী। ভারতবাসীর পক্ষে এ সংবাদ যে কি, সে কেবল ভারতবাসাঁই জানে। তবুও সমস্ত দেশ স্তন্ধ হইয়া রছিল। দেশব্যাপী কঠোর হরতাল হইল না, শোকোত্মত্ত নর-নারী পথে পথে বাহির হইয়া পড়িল না, লক্ষ কোটি সভাসমিতিতে হৃদয়ের গভীর ব্যথা নিবেদন করিতে কেহ আসিল না - যেন কোথাও কোন দুর্ঘটনা ঘটে নাই,-যেমন কাল ছিল, আজও সমস্তই ঠিক তেমনি আছে, কোনখানে একটি তিল পৰ্য্যস্ত বিপৰ্য্যস্ত হয় নাই—এমনিভাবে আসমূদ্র-হিমাচল নীরব হইয়া আছে। কিন্তু এমন কেন ঘটিল ? এতৰভু অসম্ভব কাও কি করিয়া সম্ভবপর হইল ? নীচাশয়, এ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান কাগজগুলো যাহার যাহা মুখে আসিতেছে বলিতেছে, কিন্তু প্রতিদিনের মত সে মিথ্যা খণ্ডন করিতে বেহু উদ্যত হইল না। আজ কথাকাটাকাটি করিবার প্রবৃত্তি পৰ্য্যন্ত কাহারও নাই। মনে হয়, যেন তাহাদের ভারাক্রাস্ত হৃদয়ের গভীরতম বেদনা আজ সমস্ত তর্ক-বিতর্কের অতীত । যাইবার পূর্বাহ্লে মহাত্মাষ্ঠী অনুরোধ করিয়া গেছেন, তাহার জন্য কোথাও কোন হরতাল, কোনরূপ প্রতিবাদ-সভা, কোন প্রকার চাঞ্চল্য বা লেশমাত্র আক্ষেপ উখিত না হয়। অ হ্যস্ত কঠিন আদেশ। কিন্তু তথাপি সমস্ত দেশ তাহার সে অাদেশ শিরোধাৰ করিয়া লইয়াছে। এই কণ্ঠরোধ, এই নিঃশব্দ সংযম, আপনাকে দমন করিয়া রাখার এই কঠোর পরীক্ষা যে কত বড় দুঃসাধ্য, এ-কথা তিনি ভাল করিয়াই জানিতেন, তবুও এ আজ্ঞা প্রচার করিয়া ৰাইতে র্তাহার বাধে নাই । আর একদিন— ষেদিন তিনি বিপন্ন দরিদ্র উপদ্রুত ও বঞ্চিত প্রজার পরম দুঃখ রাজার গোচর করিতে যুবরাজের অভ্যর্থনা নিষেধ করিয়াছিলেন, এই অর্থহীন, নিরানন্দ উৎসবের অভিনয় হইতে সৰ্ব্বতোভাবে বিরত হইতে প্রত্যেক ভারতবাসীকে উপদেশ দিয়াছিলেন, সেনিও তাহার বাধে নাই। রাজরোষাগ্নি যে কোথায় এবং কত দূরে উৎক্ষিপ্ত হইবে, ইহা তাহার অবিদিত ছিল না, কিন্তু কোন আশঙ্কা, কোন প্রলোভনই তাহাকে সঙ্কল্পচু্যত করিতে পারে নাই। ইহাকে উপলক্ষ করিয়া দেশের উপর দিয়া কত ঝঙ্কা কত বজ্রপাত কত দুঃখই না বহিয়া গেল, কিন্তু একবার যাহা সত্য ও কর্তব্য বলিয়া স্থির করিয়াছিলেন, যুবরাজের উৎসব-সম্বন্ধে শেষ দিন পৰ্যন্ত সে আদেশ তাহার প্রত্যাহার করেন নাই। তার পর অকস্মাৎ একদিন চৌরিচৌরার ভীষণ দুর্ঘটনা א9אא