প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৩৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बि-करब्रएकङ्ग उद्गमण-कोहिनौ অৰচ, না গেলেই হয়ত ভাল করিতাম। পথ চলার দুঃখের কথা বলিতেছি না, সে তো ছিলই । কিন্তু সেই আবার পুরাতন ইতিহাস। শুনিতে পাইলাম, এখানে ছোট-বড় প্রায় হাজার-পাঁচেক মন্দির আছে। কিন্তু অধিকাংশই আধুনিক, ইংরাজ আমলের। ইংরাজের আর যাহাই দোষ থাক্, ষে মন্দিরের প্রতি তাহার বিশ্বাস নাই তাহারও চুড়া ভাঙ্গে না, যে বিগ্রহের সে পূজা করে না তাহারও নাৰু কান কাটিয়া দেয় না। অতএব যে-কোন দেবায়তনের মাথার দিকে চাহিলে বুঝা যায়, ইহার বয়স কত । স্বামিজ দেখাইয়া দিলেন, ওটি ওমুক জীউর মন্দির সম্রাট আওরঙ্গজেব ধ্বংস করিয়াছেন ওটি ওমুক জীউর মন্দির ওমুক বাদশাহ ভূমিসাৎ করিয়াছেন, ওটি ওমুক দেবায়ুতন ভাঙ্গিয়া মসজে তৈরী হইয়াছে, ওখানে আর কেন যাইবে, আসল বিগ্রহ নাই,—নুতন গড়াইয়া রাখা হইয়াছে,— ইত্যাদি পুণ্যময় কাহিনীতে চিত্ত একেবারে মধুময় করিয়া আমরা অনেক রাত্রে আশ্রমে ফিরিয়া আসিলাম। পথে সুরেশচন্দ্র নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, যাক, সে অনেককালের কথা । - স্বামিজী কহিলেন, কালের জন্ত আসিয়া যায় না স্বরেশ, মন্দির ভাঙ্গিয়া মসজে ও বিগ্ৰহ দিয়া সিড়ি তৈরীর সুযোগ আর নাই,—এই ষা , তোমাদের ভরসা। তোমরা কংগ্রেসের দল ইংরাজ রাজার এই গুণটা অন্ততঃ স্বীকার ক’রে । এই বৃন্দাবনে এক মাড়বারী ধনী কানা খোড়া কালা অন্ধ খঞ্জ সমস্ত বষ্ণবীদেরই বৈকুণ্ঠে চড়িবার এক অদ্ভুত লিফট প্রস্তুত করিয়া দিয়াছেন শুনা গেল। সুরেশচন্দ্র ত এই মাড়বারীর ধৰ্ম্মপ্রাণতায়, বৃদ্ধির স্বগ্নতার ও ফন্দির অপরূপত্বে এক প্রকার যুদ্ধ হইয়া গিয়াছিল। দেখা হওয়া পৰ্য্যস্ত ত এই কথাই সে আমাদের একশ’বার করিয়া বলিতে লাগিল, এবং পরদিন সকাল হইতে না হইতে আমাদের সে সৰ্ব্বকৰ্ম্ম ফেলিয়া সেইদিকে টানিয়া লইয়া গেল । একটা ঘেরা জায়গায় নামা বয়সের শ’ দুই-তিন বৈষ্ণবী সারি দিয়া বসিয়াছে, প্রত্যেকের হাতে এক এক জোড়া খঞ্জনী । তাহারা সেই বাদ্যযন্ত্র-সহযোগে সুর করিয়া অবিশ্রাম আবৃত্তি করিতেছে--নিতাই গৌর রাধে খাম, হরে কৃষ্ণ হরে রাম । তাহাদের মাঝখান দিয়া পথ। দুই-তিনজন মাড়বারী কর্মচারী অমৃক্ষণ মুরিয়া ঘুরিয়া তীক্ষ দৃষ্টি রাখিয়াছে—কেহ ফাকি না দেয়। এই ভাবে প্রত্যহ বেলা এগারোটা পৰ্য্যস্ত তাহারা বৈষ্ণব-ধৰ্ম্ম পালন করিলে আধ সের করিয়া আটা পায়, এবং সন্ধ্যাকালে এইমত রুটিনে পরকালের কাজ করিলে এক আনা করিয়া পয়সা পায়। প্রভাতকাল । জন-দুই বুড়া বৈষ্ণবীর তখন পৰ্য্যস্ত ঘুম ছাড়ে নাই, তাহারা ঢুলিতেছিল, একজন আধা-বয়সী বৈষ্ণবী তাহার পাশের wev? 2•?!-- 8•