পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ষোড়শী

 জনাৰ্দ্দন । হুজুর সর্বজ্ঞ, আমাদের অভিযোগ—

 জীবানন্দ । কি অভিযোগ ?

 জনাৰ্দ্দন । আমরা গ্রামস্থ ধোল-আনা, ইতর-ভদ্র একত্র হয়ে—

 জীবানন্দ । (একটু হাসিলেন ) ত দেখতে পাচ্ছি । ( অঙ্গুলি-নির্দেশ করিয়া) ওইটি কি সেই ভৈরবীর বাপ তারাদাস ঠাকুর নয় ?

[তারাদাস সাড়া দিল না, মাটিতে দৃষ্টি-নিবন্ধ করিল । ]

 শিরোমণি । (সবিনয়ে ) রাজার কাছে প্রজা সন্তান-তুল্য, তা সে দোষ করলেও সন্তান, না করলেও সন্তান। আর কথাটা একরকম ওরই । ওর কন্যা ষোড়শীকে আমরা নিশ্চয় স্থির করেচি, তাকে আর মহাদেবীর ভৈরবী রাখা যেতে পারে না । আমার নিবেদন, হুজুর তাকে সেবায়েতের কাজ থেকে অব্যাহতি দেবার আদেশ করুন ।

 জীবানন্দ । ( চকিত ) কেন ? তার অপরাধ ?

 দু'তিনজন ব্যক্তি। ( সমস্বরে ) অপরাধ অতিশয় গুরুতর ।

 জীবানন্দ । তিনি হঠাৎ এমন কি ভয়ানক দোষ করেচেন রায়মশায়, যার জন্য তাকে তাড়ানো আবশ্যক ?

[জনাৰ্দ্দন শিরোমণিকে বলিতে চোখের ইঙ্গত করিলেন ]

 জীবানন্দ । না, না, উনি অনেক পরিশ্রম করেচেন, বুড়ো মানুষকে আর কষ্ট দিয়ে কাজ নেই, ব্যাপারটা আপনিই ব্যক্ত করুন ।

 জনাৰ্দ্দন । ( চোখে ও মুখে দ্বিধা ও সঙ্কোচের ভাব আনিয়া ) ব্রাহ্মণকন্যা—এ অদেশ আমাকে করবেন না ।

 জীবানন্দ । গো-ব্রহ্মণে আপনার অচল ভক্তির কথা এদিকে কারও অবিদিত নেই । কিন্তু এতগুলি ইতর-ভদ্রকে নিয়ে আপনি নিজে যখন উঠে-পড়ে লেগেচেন, তখন ব্যাপার যে অতিশয় গুরুতর তা আমার বিশ্বাস হয়েচে । কিন্তু সেটা আপনার মুখ থেকেই শুনতে চাই ।

 জনাৰ্দ্দল । ( শিরোমণির প্রতি ক্রুদ্ধ দৃষ্টি হানিয়া ) হুজুর যখন নিজে শুনতে চাচ্ছেন তখন আর ভয় কি ঠাকুর ? নিৰ্ভয়ে জানিয়ে দিন না !

 শিরোমণি । ( ব্যস্ত হইয়া ) সত্যি কথায় ভয় কিসের জনাৰ্দন ? তারাদাসের মেয়েকে আর আমরা কেউ রাখব না হুজুর । তার স্বভাব-চরিত্র ভারি মন্দ হয়ে গেছে—এই আপনাকে আমরা জানিয়ে দিচ্ছি ।

[ জীবানদের পরিহাস-দীপ্ত প্রফুল্ল মুখ অকস্মাৎ গম্ভীর ও কঠিন হইয়া উঠিল ]
৩৩