প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ নিৰ্ম্মল । হা সত্য । ষোড়শী । কিন্তু কেন নেবেন ? নিৰ্ম্মল । বোধ হয় আপনার প্রতি অত্যাচার হচ্ছে বলে । ষোড়শী। কিন্তু আর কিছু বোধ করেন না ত ? (এই বলিয়া সে মুচকিয়া হাসিল ) থাক্, সব কথার যে জবাব দিতেই হবে এমন কিছু শাস্ত্রের অনুশাসন নেই। বিশেষ করে এই কুট-কচালে শাস্ত্রের, না ? আচ্ছা সে যাক। মোকদ্দমার ভার যেন নিলেন, কিন্তু যদি হারি তখন ভার কে নেবে? তখন পেছোবেন না ত? নিৰ্ম্মল । না, তখনও না । ষোড়শী, ইস। পরোপকারের কি ঘটা! (হাসিয়া) আমি কিন্তু হৈম হলে এইসব পরোপকার-বৃত্তি ঘুচিয়ে দিতাম। অত ভালোমানুষই নই—আমার কাছে ফাকি চলত না। রাত্রি-দিন চোখে চোখে রেখে দিতাম | নিৰ্ম্মল । ( বিস্ময়ে, ভয়ে, আনন্দে ) চোখে চোখে রাখলেই কি রাখা যায় ষোড়শী ? এর বাধন যেখানে শুরু হয় চোখের দৃষ্টি যে সেখানে পৌঁছায় না, এ-কথা আজও জানতে পারনি তুমি । ষোড়শী । পেরেচি বই কি । (হাসিল ; বাহিরের শব্দ শুনিয়া গলা বাড়াইয়া চাহিয়া) এই যে ইনি এসেচেন । নিৰ্ম্মল। কে ? ফকিরসাহেব ? ষোড়শী । না, জমিদারবাৰু। বলেছিলুম সভা ভাঙলে যাবার পথে আমার কুঁড়েতে একবার একটু পদধূলি দিতে । তাই দিতেই বোধ হয় আসচেন। নিৰ্ম্মল । ( বিরক্তি ও সঙ্কোচে আড়ষ্ট হইয়া) তা হলে আপনি আমাকে এ-কথা বলেননি কেন ? ষোড়শী । বেশ ! একবার ‘তুমি একবার ‘আপনি ! ( হাসিয়া ) ভয় নেই, উনি ভারি ভদ্রলোক ; লড়াই করেন না । তা ছাড়া আপনাদের পরিচয় নেই ;–সেটাও একটা লাভ । ( দ্বারের নিকটে অগ্রসর হইয়া অভ্যর্থনা করিয়া ) আস্কন । জীবানন্দ ( প্রবেশ করিয়াই থমকিয়া দাড়াইয়া) ইনি ? নিৰ্ম্মলবাবু বোধ হয়। ষোড়শী । ই ; আপনার বন্ধু বলে পরিচয় দিলে খুব সম্ভব অতিশয়োক্তি হবে না । জীবানন্দ ( হাসিয়া ) বিলক্ষণ ! বন্ধু নয় ত কি ? ওঁদের কৃপাতেই ত টিকে আছি, নইলে মামার জমিদারি পাওয়া পৰ্য্যন্ত যে-সব কীৰ্ত্তি করা গেছে তাতে চণ্ডীগড়ের শাস্তিকুঞ্জের বদলে ত এতদিন আন্দামনের শ্ৰীঘরে গিয়ে বসবাস করতে হ’তো । ss