প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দশম সম্ভার).djvu/৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কি পাপেতে বল মা কালি মাখালি কলঙ্ক-কালি— এখন ভরসা কেবল কালি তুই মা বরাভয়-করা । জীবানন্দ । তুমি কে হে ? পথিক । আঞ্জে, আমি একজন যাত্রী বাবু। জীবানন্দ । বাবু বলে আমাকে চিনলে কি করে ? পথিক । আজ্ঞে, তা আর চেনা যায় না ? ভদরলোক ছাড়া এমন ধপধপে জামাকাপড় আর কাদের থাকে বাৰু? জীবানন্দ । ও-তাই বটে। শেখা থেকে আসচ ? কোথায় যাবে? এরা বুঝি তোমার সঙ্গী ? পথিক। আসচি মানভূম জেলা থেকে বাৰু, যাব পুীধামে। এদের কারও বাড়ি মেদিনীপুরে, কারও বাড়ি আর কোথাও—কোথায় যাবে তাও জানিনে । জীবানন্দ । আচ্ছা, কত লোক এখানে রোজ আসে ? যারা থাকে তারা দু’বেলা খেতে পায়, না ? পথিক । (লজ্জিত হইয়া) কেবল খাবার জন্যই নয় বাৰু। আমার পা কেটে গিয়ে ঘায়ের মত হয়েচে দেখেই মা-ভৈরবী নিজে হুকুম দিয়েছিলেন যত দিন না সারে তুমি থাকে ] জীবানন্দ । তোমাকে যেতে বলিনি ভাই, বেশ ত থাকো না । জায়গার ত আর অভাব নেই। পথিক । কিন্তু ভৈরবী মা ত আর নেই শুনতে পেলাম । জীবানন্দ । এরই মধ্যে শুনতে পেয়েচ ? তা নাই তিনি থাকলেন র্তার হুকুম ত আছে ? তোমাকে যেতে বলে কার সাধ্য ! বাড়ি কোথায় তোমার ভাই ? পথিক । বাড়ি আমার ছিল বাবু মানভূয়ের বংশীতট গায়ে । গায়ে অন্ন নেই, জল নেই, ডাক্তার-বদ্যি নেই-জমিদার থাকেন কলকাতায়, কখনো তাকে কেউ দুঃখ জানাতে পারিনে। আছে শুধু গোমস্ত টাকা আদায়ের জন্তে । [ জীবানন্দ নিঃশব্দে মাথা নাড়িয়া সায় দিলেন । ] পথিক । উপরি উপরি দু’সন বৃষ্টি হ’লো না, ক্ষেতের ফসল জলে-পুড়ে গেল, এও সয়েছিল বাপু,-কিন্তু–(কান্নায় তাহার গলা বুজিয়া আসিল । ) জীবানন্দ । তাই বুঝি তীর্থ-দর্শনে একবার বেরিয়ে পড়লে ? שר