প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় করেন না -এমনি কি ক’রে সম্ভব হয় মা ! বোধ হয় সম্ভব হয় শুধু আমাদের চেয়ে আপনি অনেক বড় বলেই । সবিতা বলিলেন, বড় নই মা ; কিন্তু তোমার আমার অবস্থা এক নয়। তুমি নিজে সম্পূর্ণ নিঃস্ব, সম্পূর্ণ নিরুপায়, কিন্তু আমি তা নয়। সেদিন যে আমার অনেক টাকার সম্পত্তি কেনা হোলো সে আমার অাছে সারদা । সারদা আশ্বস্ত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, তাতে তো গোলযোগ ঘটবে না মা ? সবিতা সগৰ্ব্বে বলিয়া উঠিলেন, সে যে আমার স্বামীর সারদা—সে যে আমার নিজের টাকা । তাতে গোলযোগ ঘটায় সাধ্য কার ? বারো বৎসর সবিতা একাকী, আত্মীয়-স্বজনহীন বারোট বৎসর কাটিয়াছে র্তাহার পরগুহে । মনের কথা বলিবার একটি লোকও এতদিন ছিল না। টাকার বিবরণ দিতে গিয়া অকস্মাৎ এই মেয়েটির সম্মুখে তাহার এতকালের নিরুদ্ধ উৎস-মুখ খুলিয়া গেল। হঠাৎ কি করিয়া স্বামীর সাক্ষাৎ মিলিল, প্রায়ান্ধকার গৃহকোণে কেবলমাত্র ছায়া দেখিয়া কেমন করিয়া তাহাকে তিনি চিনিয়া ফেলিলেন, তখন কি করিয়া নিজেকে তিনি সংবরণ করিলেন, তখন কি তিনি বলিলেন, কি তিনি করিলেন এইসকল অনর্গল বকিতে বকিতে কিছুক্ষণের জন্ত সবিতা যেন আপনাকে হারাইয়া ফেলিলেন । সারদার বিস্ময়ের সীমা নাই—নতুন-মার এতখানি আত্মবিস্মরণ তাহার কল্পনার অগোচর । নীচে হইতে ডাক আসিল—মাইজী ! সবিতা সচেতন হইয়া সাড়া দিলেন, কে মহাদেব ? দরওয়ান উপরে আসিয়া জানাইল র্তাহার আদেশ মত শোফার গাড়ি আনিয়াছে। আধঘণ্টা পরে প্রস্তুত হইয়া নীচে নামিয়া দেখিলেন দ্বারের কাছে সারদা দাড়াইয়া, সে বলিল, মা, আমি আপনার সঙ্গে যাবো। সেখানে রাখাল-রাজবাবু আছেন, ভিনি কখনো রাগ করবেন না । কেহ সঙ্গে যায়, এ ইচ্ছা সবিতার ছিল না, বলিলেন, রাগ হয়তো কেউ করবে না, কিন্তু সেখানে গিয়ে তোমার কি হবে সারদা ? সারদা কহিল, আমি সব জানি মা । রেণু অসুস্থ, আমি তাকে একবার দেখে আসবো । তার বেশী সাধ হয়েচে আমার রেণুর বাপকে দেখায়—প্ৰণাম করে তীর পায়ের ধূলো নেবো। এই বলিয়া সে সম্মতির অপেক্ষ না করিয়াই গাড়িতে উঠিয়া বসিল । পথে চলিতে সে আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, রেণুর বাপ কি-রকম দেখতে भा ? ሕግ. ১২শ-১৩