প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কণ্ঠস্বর তাহাকে কোনোটাতেই প্রবৃত্ত হইতে ভরসা দিল না। সুতরাং সে মনে মনে ছুঃখ অপেক্ষ অস্বস্তিই অনুভব করিতে লাগিল বেশী । প্ল্যাটফর্মের কৰ্ম্মব্যস্ত জনতায় নিবন্ধদৃষ্টি সবিতার চক্ষুদ্ধ" অকস্মাৎ উজ্জল হইয়া উঠিল। দূরে বিমলবাবুকে আসিতে দেখা গেল। প্রশাস্ত সৌম্যমূৰ্ত্তি, পদক্ষেপ ঈষৎ দ্রুত। ট্রেনের কামরাগুলির মধ্যে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি মেলিয়া অগ্রসর হইয়া আসিতেছেন। দেখিতে দেখিতে সবিতার মূখ-চোখ আনন্দের স্নিগ্ধ কিরণে ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত হইয়া বিমলবাবু প্রসঙ্গ-হাস্তে সবিতার কাযরার সামনে আসিয়া দাড়াইলেন। তারক তাড়াতাড়ি প্ল্যাটফৰ্ম্মে লাফাইয়া পড়িয়া পুলকিত-কণ্ঠে কহিল, এই ষে আপনি স্টেশনে এসেচেন দেখচি । আমরা আশা করেছিলাম বাড়িতেই দেখা করতে আসবেন। ট্রেনটাইম পৰ্য্যস্ত এলেন না দেখে কিন্তু ভাবনা হয়েছিল। বিমলবাবু সবিতার মুখের পানে দৃষ্টি স্থাপন করিয়া শান্তকণ্ঠে তারককে প্রশ্ন করিলেন,—তোমরা মানে ? বিমলবাবুর প্রশ্নে তারক সবিতার দিকে চাহিয়া হঠাৎ লজ্জায় অপ্রস্তুত হইয়া পড়িল। কথাটা বহুবচনে না বলিলেই বোধ হয় শোভন হইত। ছি, নতুন-মা হয়তে কি মনে করিলেন ! কিন্তু তারকের এ লঙ্গ হইতে পরিত্রাণ করিলেন নতুন-মাই! স্নিগ্ধ হাসিয়া কহিলেন, তারক ঠিকই বলেচে । আজ সকালবেলায় আমার ওখানে তোমার আসা সম্ভব মনে করেছিলাম। সারদাও বলছিল তোমার কথা । বিমলবাবু সবিতায় কামরার মধ্যে একবার দৃষ্টি বুলাইম্বা লইয়া বলিলেন, সারদা কোথায় ? সবিতার উত্তর দিবার পূৰ্ব্বেই তারক রক্ষশ্বরে বলিয়া উঠিল, হ্যা, তিনি নাকি সহরের কলের জল ইলেকট্রিক আলো ছেড়ে পচা পাড়াগায়ে বাস করতে যাবেন ? তবে সেটা দয়া করে গোড়াতে বললেই ভাল করতেন, আমরা এতটা অসুবিধায় পড়তাম না । বিমলবাবু বিস্মিত হইয়া বলিলেন, সারদা কি তোমার সঙ্গে হরিণপুরে যাচ্চে না ? সবিতা উদাস হাসিয়া নীরবে মাথা নাড়িয়া ইঙ্গিতে জানাইলেন, সারদা আসিতে পারে নাই । বিমলবাবু ত্রস্ত হইয়া উঠিলেন। বাম হাতখানি উন্টাইয়া মণিবন্ধে বাধা সোনার রিস্টওয়াচের পানে দৃষ্টি নিবন্ধ করিয়া ব্যস্ত-স্বরে বলিলেন, যথেষ্ট সময় আছে। এখনি মোটর নিয়ে গিয়ে সারাকে তুলে আনি নতুন-বে। আমি গিয়ে বললে সে 'না' বলতে পারবে না । * 分●朝