প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় পাণ্টে বিশ্ব-ব্রহ্মাও যেন লও-ভও হয়ে পেল। ভাঙতে চুরতে কোথাও কিছু আর বাকী রইল না। এই বলিয়া সে নীরব হইল । - কিন্তু চুপ করিয়াও থাকিতে পারিল না, কহিল, এতদিন কাউকে কোন কথা বলি নি। আর বলবই বা কাকে ? আজও বলা উচিত কি-না জানিনে, কিন্তু বুকের ভেতরটায় যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে— চাহিয়া দেখিল, তারকের মুখে অপরিসীম কৌতুহল, কিন্তু সে প্রশ্ন করিল না। রাখাল নিজের সঙ্গে ক্ষণকাল লড়াই করিয়া অকস্মাৎ উচ্ছসিতকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, তারক, নিজের মাকে দেখিনি, মা বলতে আমার নতুন-মাকেই মনে পড়ে। এই আমার সেই নতুন-মা। এতক্ষণে সত্যিই তাহার কণ্ঠ রুদ্ধ হইল। প্রথমে দুই চোখ জলে ভরিয়া আসিল, তারপরে বড় বড় কয়েক ফোটা অশ্রু গড়াইয়া পড়িল । মিনিট দুই-তিন পরে চোখ মুছিয়া নিজেই শাস্ত হইল, কহিল, উনি তোমাকে দিন-দুই থাকতে বলে গেলেন, হয়তো তোমাকে তার কাজ আছে । বারো-তেরো বছর পূর্বের কথা—সেদিন ব্যাপারটা কি ঘটেছিল তোমাকে বলি। তার পরে থাকা না থাকা তোমার বিবেচনা । তারক চুপ করিয়া ছিল, চুপ করিয়াই রহিল। রাখাল বলিতে লাগিল, তখন কে একজন ওঁদের কলকাতার আত্মীয় প্রায়ই বাড়িতে আসতেন, কখনো দু-একদিন, কখনো বা তার সপ্তাহ কেটে যেতো। সঙ্গে আসত তেল-মাখাবার খানসামা, তামাক সাজার তৃত্য, ট্রেনে খবরদারি করবার দরওয়ান—আর নানারকমের কত যে ফল-মূল-মিষ্টান্ন তার ঠিকানা নেই। পাল-পাৰ্ব্বণ উপলক্ষে উপহারের তো পরিমাণ থাকতো না। তার সঙ্গে ছিল এদের ঠাট্টার স্ববাদ । শুধু কোন সম্পর্কের হিসেবেই নয়, বোধ করি বা ধনের হিসেব থেকেও এ-বাড়িতে র্তার আদর-আপ্যায়ন ছিল প্রভূত। কিন্তু বাড়ির মেয়েরা যেন ক্রমশঃ কি একপ্রকার সন্দেহ করতে লাগল। কথাটা ব্ৰজবাবুর কানে গেল, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করা তো দূরের কথা, উন্টে করলেন রাগ। দূর সম্পর্কের এক পিসতুতো বোনকে যেতে হোলে৷ তার শ্বশুরবাড়ি। শুনেচি, এমনিই নাকি হয়ে থাকে—এই হ’লো দুনিয়ার সাধারণ নিয়ম। তা ছাড়া, এইমাত্র তে ওর নিজের মুখেই শুনতে পেলে, কর্তার মতো সরলচিত্ত ভালো-মানুষ লোক সংসারে বিরল। সত্যিই তাই । কারও কোন কলঙ্ক মনের মধ্যে স্থান দেওয়াই কঠিন। আর সন্দেহ কাকে, না নতুন-মাকে, ছিঃ ! দিন কাটে, কথাটা গেল বাহত: চাপা পড়ে, কিন্তু বিদ্বেষ ও বিষের বীজাণু আশ্রয় নিলে পরিজনদের নিভৃত গৃহ-কোণে। যাদের সবচেয়ে বড় ক’রে আশ্রয় দিয়েছিলেন > y