প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেবের পরিচয় পানে চাহিয়া রাখাল নিজের পরে বিরক্ত হইল। আজকাল তাহার ষেন কি হইয়াছে। ঘরন্থয়ার, কাজকৰ্ম্ম, বেশভূষা, শরীর-স্বাস্থ্য কোনদিকে আর মনোযোগ নাই। এমন কি সবদিন খাওয়া-দাওয়ার ও খেয়াল থাকে না তার। এ ভাল নয়। গরীব মানুষ সে । এ-রকম থামখেয়াল বড় মানুষদেরই সাজে। যাহাদের প্রতিবারের পেটের অন্ন প্রতিদিনের উপার্জনের উপর নির্ভর করে, তাহাজের এ অস্তমনস্কতা শোভা পায় না। বারংবার সুদীর্ঘ কামাই করার দরুণ তাহার টিউশনিগুলি একে একে গিয়াছে। কেবল একটিমাত্র টিউশনি আজও কোনক্রমে টিকিয়া আছে, সে কেবল রাখাল তাহাদের সময়-অসময়ের একমাত্র বিশ্বস্ত কাজের মানুষ বলিয়া টিউটররূপে তার মূল্য না থাকিলেও, বন্ধু হিসাবে, বিশ্বন্ত কাজের লোক হিসাবে মূল্য আছে । নিজের লেখাপড়ার কাজও এইসব ঝঞ্জাটে বন্ধ রহিয়াছে। যাত্রার পালা লেখা ও বেনামীতে নাটক রচনায় বহুদিন আর হাত দিতে পারে নাই। ব্যাঙ্কের ও পোস্টঅফিসের পাশ বহিতে জমার ঘর শূন্ত হইয়া আসিয়াছে। খাবারের দোকানে, মুদির দোকানে এবং গোয়ালার কাছে কিছু টাকা বাকী পড়িয়াছে। যদিও সে আজকাল আর নিজের পরিচ্ছন্ন পোষাক-পরিচ্ছদের সৌখিন বিলাসে একেবারেই মনোযোগী নয়—তবুও দজি ও ধোবার বিল বোধহয় বেশ কিছু জমিয়াই আছে। নীলুর ডাকে রাখাল উঠিয়া মুখ ধুইতে ধুইতে বলিল, নীলুখুড়ো, স্টোভটা ধরিয়ে লক্ষ্মী ছেলের মতো চায়ের জলটা চড়িয়ে দাও দিকি । নীলু ঘরের সম্মুখে দালানে এটাে বাসন দেখিতে না পাইয়া বিন্মিত হইয়া রাখালের নিকটে আসিয়াছিল। উদ্বিগ্ন-স্বরে জিজ্ঞাসা করিল, বাবু, আপনার কি অমুখ করেচে ? রাখাল তাহার মুখের পানে তাকাইয়া বলিল, কে বললে রে ? কিছু খাননি যে | রাখাল হাসিয়া বলিল, না, অমুখ করেনি। এমনিই আজ খাইনি। ভূমি এখন একটা কাজ কর তো নীলুখুড়ে। চায়ের জলট দিয়ে ঐ মোড়ের দোকান থেকে গরম সিঙাড়া কিছু নিয়ে এসো, চায়ের সঙ্গে খাওয়া যাবে। নীলু স্টোভ জালিয়া চায়ের জল বসাইয়া খাবার আনিতে চলিয়া গেল। রাখাল চা তৈয়ার করিতে বসিল । একবার মনে হইল, এত হাঙ্গামা না করিয়া সারদার কাছে গিয়া বলিলেই তো হয়—আজ অসময়ে ঘুমাইয়া পড়িয়াছিলাম। ভাত খাইতে ভূল হইয়া গিয়াছে। ব্যস, তারপরে আর কিছু ভাবিতে হইবে না । কল্পনায় সারদার স্তম্ভিত ক্রুদ্ধ মুখের অন্তরালে যে ব্যাকুল স্নেহের সংগুপ্ত রূপ রাখালের চোখে ভাসিয়া উঠিল, তাহা স্মরণ করিয়া বুকের ভিতর হইতে একটি গভীর দীর্ঘশ্বাস বাহির হইয়া আসিল ; না, সারদার নিকট যাওয়া উচিত নয়। বেচারী নিরূপায় বেদনায় মর্শ্বাহত হইবে মাত্ৰ ! রাখাল জানে, সারদার কি বিপুল জাৰাজ, త్రి Vt