প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তারক অল্পক্ষণ চিন্তা করিয়া বলিল, ফিরবেন কতদিনে ? সবি তা স্নান হালিরা বলিলেন, হয়তে কলকাতায় আর নাও ফিরতে পারি। যদি ও অঞ্চলে কোনও দেশ ভালো লাগে, সেইখানে একখানি ছোটখাটো বাড়ি কিনে বাস করবো ভেবেচি । তারক চুপ করিয়া রহিল। সবিতা বলিলেন, ওদের পাকা কথা দিয়ে দিয়ো । তারকের খাওয়া শেষ হইয়াছিল। আসন হইতে উঠিতে উঠিতে বলিল, ভেবে দেখি । সেদিন রাত্রে সবিতা শয়ন করিলে সারদা যখন র্তাহার মশারীর ধারগুলি বিছানার তলায় গুজিয়া দিতেছিল, সবিতা বলিলেন, সারদা, তোমার স্কুলের পরীক্ষা কবে ? সারদা বলিল, আড়াই মাস পরে। সবিতা একটু চিস্তা করিয়া বলিলেন, আমি কিছুদিন তীর্থভ্রমণে বেরুবে মনে করচি–তুমি যাবে আমার সঙ্গে ? সারদা উৎসাহিত কণ্ঠে কহিল, হ্যা মা—যাবো। একমাত্র কাশী ছাড়া আমি জীবনে আর কোনও তীর্থে যাইনি। গয়ায় একবার গিয়েছিলাম বটে, সে খুব ছোটবেলায়, এগারো-বারো বছর বয়সে। স্বামীর পিগুদান করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন বাবা । কথাটা শুনিয়া সবিতা যথেষ্ট বিস্মিত হইলেন, কিন্তু কিছু বলিলেন না। সারদা বলিল, কবে আমাদের যাওয়া হবে মা ? তারকের বিয়েটা চুকে যাক। তার পরে কলকাতার বাসা একেবারে তুলে দিয়ে চলে যাবো ভাবচি । সারদা বলিয়া উঠিল, আমাকে সঙ্গে রাখবেন তো ? না মা, তোমাকে কলকাতায় আবার ফিরতে হবে। কেন মা ! সারদার কণ্ঠস্বরে উদ্বেগ ধ্বনিত হইয়া উঠিল । তুমি যে প্রয়োজনে শিক্ষা নিচ্চো সে যে শেষ হয়নি মা ! ফিরে এসে বোর্ডিং-এ থেকে শিক্ষা সম্পূর্ণ করে তার পরে মামার কাছে গিয়ে থাকবে। সারদা স্তন্ধ হইয়া দাড়াইয়৷ রহিল। কিছুক্ষণ চিন্তা করিয়া মানকণ্ঠে ধীরে ধীরে বলিল, আমার তীর্থভ্রমণে গিয়ে কাজ নেই মা । ૨૬ જ