প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৩০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমার বয়স তখন বছর-বারো। সকালে ছুটির দিনে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে বসে ঘুড়ি তৈরী করচি, কানে গেল ও-পাড়ার নয়ন বাগদীর গলা। লে আমার ঠাকুরমাকে বলচে, গোটা-পাচেফ টাকা দাও না দিঠিাকরুণ, তোমার নাতিকে দুধ খাইয়ে শোধ দেব। ঠাকুরমা নয়নটাকে বড় ভালবাসতেন, জিজ্ঞাসা করলেন, হঠাৎ টাকার কি দরকার হ’লো, নয়ন ? সে বললে, একটি ভাল গরু আনৰ, দিদি। বসন্তপুরে পিলিমার বাড়ি, পিসতুত তাই বলে পাঠিয়েচে, চার-পাচটি গরু সে রাখতে পারচে না, আমাকে একটি দেবে। কিছু নেবে না জানি, তবু গোটা-পাচেক টাকা সঙ্গে রাখা ভালো । ঠাকুরমা জার কিছু না বলে পাচটা টাকা এনে তার হাতে দিলেন, সে প্রণাম করে চলে গেল । আমি শুনেছিলাম বসন্তপুরে ভালো ছিপ পাওয়া যায়, স্বতরাং নিঃশব্দে তার সঙ্ক নিলাম। মাইল-দুই কাচা পথ পেরিয়ে গ্রাও ট্রাঙ্ক রোড ধরে বসন্তপুরে যেতে হয়। মাইল-খানেক গিয়ে কি জানি কেন হঠাৎ পিছনে চেয়ে নয়ন দেখে আমি । ভয়ানক রাগ করলে, বললে আমার জন্ত সে দশখান। ছিপ কেটে আনবে ; তবু কোনমতে আমি ফিরে যেতে রাজি হলাম না। অনেক কাকুতি-মিনতি করলাম, কিন্তু সে শুনলে না। আমাকে ধরে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এল। কান্নাকাটিতে ঠাকুরমা একটু নরম হলেন, কিন্তু নয়নটা কিছুতে সম্মত হ’লে না। বললে, দিদি, যেতে আসতে কোশ-আটেক পথ বৈ নয়, জ্যোছন রাত-স্বচ্ছদে নিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু পথটা ভালো নয়, ভয় আছে। বেলাবেলি যদি ফিরতে না পারি, তখন একলা গরু সামলাবো, না ছেলে সামলাবো, না নিজেকে সামলাবো-কি কল্পৰ বলত, দিদি । পখে তয়টা যে কি তা এ অঞ্চলের সবাই জানে। ঠাকুরমা একেবারে বেঁকে দাড়ালেন, বললেন, না, কখনো না। যদি পালিয়ে যাল, তোর ইস্কুলের মাস্টারমশাইকে চিঠি লিখে পাঠাবো, তিনি পঞ্চাশ ঘা বেত দেবেন। নিরুপায় হয়ে আমি তখন অন্য ফন্দি আটলাম। নয়ন চলে গেলে, পুকুরে নেয়ে জাসি বলে তেল মেখে গামছা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। নদীর ধারে ধারে বন-জঙ্গল ও আম-কঁঠাল বাগানের ভিতর দিয়ে মাইল দুই-আড়াই ছুটতে ছুটতে যেখানটায় আমাদের কাচা রাস্ত এসে পাকা রাস্তায় মিলেচে সেখানটায় এলে দাড়িয়ে রইলাম। মিনিট-শেক পরে দেখি নয়ন আসচে। সে আমাকে দেখে প্রথম খুব বকলে, তারপর আমি কি করে এসেচি শুনে হেসে ফেললে। বললে, চলো ঠাকুর, যা আদেষ্ট্রে আছে তাই হবে। এতদূর এসে জার তো ফিরতে পারিনে। ९*** -