প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমি লেখা এনে দেবে, যদি নকল করে দাও, তোমাকে দশ-পনেরো-কুড়ি টাকা আমি স্বচ্ছন্দে পাইয়ে দিতে পারবো ; কিন্তু যত্ব করে লিখতে হবে, বেশ স্পষ্ট নিভুল হওয়া চাই। কেমন, পারবে তো ? সারদা প্রত্যুত্তরে শুধু মাথা নাড়িল, কিন্তু আনন্দে তাহার সমস্ত মুখ উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল। দেখিয়া রাখালের আর একবার চমক লাগিল। অন্ধকার গৃহের মধ্যে আকস্মিক বিদ্যুদীপালোকে এই মেয়েটির আশ্চৰ্য্য রূপের যেন সে একটা অত্যাশ্চর্য্য মূৰ্ত্তির সাক্ষাৎ লাভ করিল। রাখাল কহিল, যাই এবার গাড়ি ডেকে আনিগে ! মেয়েটি বলিল, ই আমুন। আর আমার ভাবনা নেই। বোধ হয় এইজন্যেই আমি যেতে পেলাম না, ভগবান আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। রাখাল গাড়ি আনিতে গেল, ভাবিতে ভাবিতে গেল, সারদা আমাকে বিশ্বাস করিয়াছে। একদিকে এই কটি টাকা, আর একদিকে—? তুলনা করিতে পারে এমন কিছুই মনে পড়িল না । বাসায় পৌঁছিয়া রাখাল নতুন-মার সন্ধানে উপরে গিয়া শুনিল তিনি বাড়ি নাই। কখন এবং কোথায় গিয়াছেন দাসী খবর দিতে পারিল না। কেবল এইটুকু বলিতে পারিল যে, বাড়ির মোটরখানা আস্তাবলেই পড়িয়া আছে, সুতরাং হয় তিনি আর কোন গাড়ি পথের মধ্যে ভাড়া করিয়া লইয়াছেন, না হয় পায়ে হাটিয়াই গেছেন। রাখাল উদ্বিগ্ন হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, সঙ্গে কে গেছে ? দাসী কহিল, কেউ না । দরওয়ানজিকে দেখলুম বাইরে বসে আছে। আর রমণীবাবু। দাসী কহিল, আমাদের বাৰু? তিনি তো রোজ আসেন না। এলেও রাত্রি নটা-দশটা হয় । রাখাল জিজ্ঞাসা করিল, রোজ আসেন না তার মানে ? না এলে থাকেন কোথায় ? দাসী একটুখানি মুখ টিপিয়া হাসিল, কহিল, কেন, তার বাড়ি-ঘর-দোর নেই নাকি ? রাখাল আর দ্বিতীয় প্রশ্ন করিল না, মনে মনে বুঝিল আসল ব্যাপারটা ইহাদের অজানা নয়। নীচে আসিয়া দেখিল সারদাকে ঘিরিয়া সেখানে মেয়েদের প্রকাও ভীড়। আর শিশুর দল, যাহারা তখনও পর্য্যন্ত ঘুমায় নাই, তাহাদের আনন্দ-কলরবে হাট বসিয়া গেছে। তাহাকে দেখিয়া সকলেই সরিয়া গেল—যে প্রৌঢ় স্ত্রীলোকটির জিন্মায় সারদার ঘরের চাবি ছিল সে আসিয়া তালা খুলিয়া দিয়া গেল । রাখাল জিজ্ঞাসা করিল, তোমার স্বামীর কোন খবর পাওয়া যায়নি ? সারদ কহিল, না ! ६२