প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లి কলিকাতার ঘাটে জাহাজ ভিড়িল। দেখিলাম, জেটির উপর বন্ধু দাডাইয়া আছে। সে সিড়ি দিয়া তাড়াতাড়ি উঠিয়া আসিয়া ভূমিষ্ঠ হইয় প্রণাম করিয়া কহিল, মা রাস্তার উপর গাড়িতে অপেক্ষা করচেন। আপনি নেবে যান, আমি জিনিস-পত্র নিয়ে পরে যাচ্চি। বাহিরে আসিতেই আর একটা লোক গড় হইয়া প্ৰণাম করিয়া উঠিয়া দাড়াইল। বলিলাম, রতন যে ! ভাল ত ? রতন একগাল হাসিয়া কহিল, আপনার আশীৰ্ব্বাদে ! আমুন। বলিয়া পথ দেখাইয়া গাড়ির কাছে আনিয়া দরজা খুলিয়া দিল। রাজলক্ষ্মী কহিল, এসো। রতন, তোরা বাবা আর একটা গাডি করে পিছনে আসিস্—ফুটে বাজে, এখনও ওঁর নাওয়া-খাওয়া হয়নি, আমরা বাসায় চললুম। গাডোয়ানকে যেতে বলে দে। আমি উঠিয়া বসিলাম । বতন যে-আজ্ঞে বলিয়া গাড়ির দরজা বন্ধ করিয়া দিয়া গাড়োয়ানকে হাকিতে ইঙ্গিত করিয়া দিল। রাজলক্ষ্মী হেট হইয়া পদধূলি লইয়া কহিল, জাহাজে কষ্ট হয়নি ত ? না । বডড অমুখ করেছিল নাকি ? অস্কখ করেছিল বটে, বডড নয়। কিন্তু তোমাকে ত ভাল দেখাচ্চে না ! বাড়ি থেকে কবে এলে ? পরশু , অভয়ার কাছ থেকে তোমার আসবার খবর পেয়েই আমরা বেরিয়ে পড়ি। সেই আসতেই ত হতো–ছু দিন আগেই এলুম। এখানে তোমার কত কাজ আছে জানো ? কহিলাম, কাজের কথা পরে শুনবো । কিন্তু তোমাকে এ-রকম দেখাচ্ছে কেন ? কি হয়েছিল ? রাজলক্ষ্মী হাসিল, এ হাসি যে কতদিন দেখি নাই, তাহা এই হাসিটি দেখিয়াই শুধু আজ মনে পড়িল । এবং সঙ্গে সঙ্গে কতবড় যে একটা অদম্য পূহ নিঃশব্দে দমন করিয়া ফেলিলাম, তাহ অন্তৰ্য্যামী ছাড আর কেহ জানিল না। কিন্তু দীর্ঘশ্বাসটা তাহাকে লুকাইতে পারিলাম না, সে বিক্ষিতের মত ক্ষণকাল আমার পানে চাহিয়া থাকিয়া পুনরায় হাসিয়া জিজ্ঞাস করিল, কি রকম দেখাচ্চে আমাকে, রোগী ? সহসা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিলাম না। রোগ ? ই রোগা একটু বটে, কিন্তু সে কিছুই নয়। মনে হইল সে যেন কত দেশ-দেশান্তর পায়ে হঁটিয়া তীর্থ পৰ্য্যটন করিয়া এইমাত্র ফিরিয়া আসিল—এমনি ক্লাস্ত, এমনি পরিশ্রান্ত ! নিজের ভার নিজে বহিবার তাহার আর শক্তিও নাই, প্রবৃত্তিও নাই। এখন কেবল নিশ্চিস্ত নিৰ্ভয়ে চোখ বুজিয়া ঘুমাইবার একটু জায়গা অন্বেষণ করিতেছে। আমাকে নিরুত্তর দেখিয়া কহিল, কৈ বললে না যে ? as