প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিন্তু বস্তৃক্ষণ মৌন ছিলাম, কথা কহিবার জন্যে ভিতরে ভিতরে একটা আবেগ উপস্থিত হইয়াছিল ; তাই বেশিক্ষণ চুপ করিয়া থাকিতে পারিলাম না, আৰার কথা কহিলাম। বলিলাম, বৰ্দ্ধমান থেকে কিছু খাবার কিনে নিলে হতো। রাজলক্ষ্মী কোন উত্তরই দিল না, তেমনি চুপ করিয়া রহিল। বলিলাম, পরের শোকে এতক্ষণ কেঁদে ভাসিয়ে দিলে, আর ঘরের লোকের দুঃখে যে কানই দাও না। এ বিলেত-ফেরতের বিদ্যা শিখলে কোথায় ? রাজলক্ষ্মী এবাব ধীরে ধীরে কহিল, বিলেত-ফেরতের উপর যে তোমার ভারী ভক্তি দেখি ! বলিলাম, হুঁ, র্তারা ভক্রির পাত্র যে ! কেন, তারা তোমাদের করলে কি ? এখনো কিছু করেনি, কিন্তু পাছে কিছু করে এই ভয়েই আগে থেকে ভক্তি করি। রাজলক্ষ্মী ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, এ তোমাদের অন্যায়। তোমরা তাদের দল থেকে, জাত থেকে, সমাজ থেকে—সব দিক থেকেই বার করে দিয়েচ। তবু যদি তারা তোমাদের জন্য এতটুকুও করে, তাতেই তোমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কহিলাম, আমরা ঢের বেশী কৃতজ্ঞ হতুম যদি তারা সেই রাগে পুরাপুরি মুসলমান কিংবা খ্ৰীষ্টান হয়ে যেত। ওদের মধ্যে যারা নিজেদের ব্রাহ্ম বলে, তারা ব্রাহ্ম সমাজকে নষ্ট করছে, যার হিন্দু বলে মনে করে, তারা হিন্দু সমাজকে ত্যক্ত করে মারছে। ওরা নিজেরা কি, যদি তাই আগে ঠিক করে নিয়ে পরের জন্যে র্কাদতে বসতে, তাতে হয়ত ওদের নিজেদেরও মঙ্গল হতো, যাদের জন্য র্কাদে তাদেরও হয়ত একটু উপকার হতো। রাজলক্ষ্মী কহিল, কিন্তু আমার ত তা মনে হয় না ! বলিলাম, না হলেও তেমন ক্ষতি নেই, কিন্তু যে জন্যে সম্প্রতি আটকাচ্ছে, সে অন্য কথা । কই—তার ত কোন জবাব দাও না ! এবার রাজলক্ষ্মী হাসিয়া কহিল, ওগো, সে জন্যে আটকাবে না। আগে তোমার ক্ষিদে পাক, তারপর চিন্তা করে দেখা যাবে। বলিলাম, তখন চিন্তা করে যে-কোনও স্টেশন থেকে যা মেলে খাবার কিনে গিলতে দেবে—এই ত ? কিন্তু সে হবে না, তা বলে রাখচি । জবাব শুনিয়া লে আমার মুখের প্রতি খানিকক্ষণ চুপ করিয়া চাহিয়া থাকিয়া আবার একটু হাসিয়া বলিল, এ আমি পারি, তোমার বিশ্বাস হয় ? বলিলাম, বেশ, এতটুকু বিশ্বাসও তোমার উপর থাকবে না ? তা বটে ! বলিয়া সে পুনরায় তাহার জানালার বাহিরে চাহিয়া নিরবে বসিয়া ब्रश्लि । পরের স্টেশনে রাজলক্ষ্মী রতনকে ভাকিয়া খাবারের জায়গাটা চাহিয়া লইল এবং 32 o'