পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত পিয়ারী চক্ষের নিমেষে আমার মনের ভাব উপলব্ধি করিয়া বলিল, আমি সঙ্গে থাকলে হয়ত কেউ দেখে ফেলতেও পারে, না ? অপ্রতিভ হইয়া কহিলাম, বাস্তবিক দুর্নাম জিনিসটা এমন যে, লোকে মিথ্যে দুর্নামের ভয় না ক’রে পারে না ! পিয়ারী জোর করিয়া একটু হাসিয়া বলিল, তা বটে। আর বছর আরাতে ত তোমাকে একরকম কোলে নিয়েই আমার দিন-রাত কাটল । ভাগ্যি সে অবস্থাট কেউ দেখে ফেলেনি। সেখানে বুঝি তোমার কেউ চেনাক্তন বন্ধু-টন্ধু ছিল নী । অতিশয় লজ্জিত হইয়া বলিলাম, আমাকে খোটা দেওয়া বৃথা, মানুষ হিসাবে তোমার চেয়ে যে আমি অনেক ছোট, সে কথা ত অস্বীকার করিনে । পিয়ারী তীক্ষকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, খোটা! তোমাকে খোটা দিতে পারবো বলেই বুঝি তখন গিয়েছিলুম ? দ্যাথো, মানুষকে ব্যথা দেবার একটা সীমা আছে—সেটা ডিঙিয়ে যেয়ো না । এক মুহূৰ্ত্ত স্তন্ধ থাকিয়া পুনরায় কহিল, কলঙ্কই বটে। কিন্তু আমি হলে এ কলঙ্ক মাথায় নিয়ে লোককে বরঞ্চ ডেকে দেখাতুম, কিন্তু এমন কথা মুখ দিয়ে বার করতে পারতুম না। বলিলাম, তুমি আমার প্রাণ দিয়েছ—কিন্তু আমি যে অত্যন্ত ছোটমানুষ রাজলক্ষ্মী, তোমার সঙ্গে যে আমার তুলনাই হয় না। রাজলক্ষ্মী দৃপ্তম্বরে কহিল, প্রাণ যদি দিয়ে থাকি ত সে নিজের গরজে দিয়েচি, তোমার গরজে দিইনি। সে জন্য তোমাকে একবিন্দু কৃতজ্ঞ হতে হবে না ! কিন্তু ছোটমানুষ বলে যে তোমাকে ভাবতে পারিনি। তা হলে ত বঁচিতুম, গলায় দড়ি দিয়ে সব জালা জুড়োতে পারতুম। বলিয়। সে প্রত্যুত্তরের জন্য অপেক্ষামাত্র না করিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল। পরদিন সকালে রাজলক্ষ্মী চা দিয়া নীরবে চলিয়া যাইতেছিল, ডাকিয়া বলিলাম, কথাবার্তা বন্ধ নাকি ? সে ফিরিয়া দাড়াইয়া কহিল না, কিছু বলবে? বলিলাম, চল প্রয়াগ থেকে একবার ঘুরে আসি গে। বেশ ত, যাও না । তুমিও চল । অনুগ্রহ নাকি ? চাও না ? না। যদি সময় হয় চেয়ে নেব, এখন না।—বলিয়া সে নিজের কাজে চলিয়া গেল। ›› ግ