পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত আধঘণ্টা পরেই একটা ট্রেন কলিকাতা অভিমুখে রওনা হইবে । ভাবিলাম, সেই ভাল, গ্রামের মুখ বহুদিন দেখি নাই—সেই জঙ্গলের মধ্যে গিয়াই বাকী দিন কয়টা কাটাইয়া দিব। সুতরাং পশ্চিমের পরিবর্তে পূবের টিকিট কিনিয়াই আধঘণ্টা পরে এক বিপরীতগামী বাষ্পীয় শকটে উঠিয়া কাশী পরিত্যাগ করিয়া গেলাম । বহুকাল পরে আবার একদিন অপরাহ বেলায় গ্রামে আসিয়া প্রবেশ করিলাম। আমার বাড়িটা তখন আমাদের আত্মীয়-আত্মীয়া ও র্তাহাদের আত্মীয়-আত্মীয়ায় পরিপূর্ণ। সমস্ত ঘর-দুয়ার জুড়িয়া তাহারা আরামে সংসার পাতিয়া বসিয়াছেন, ছু চটি রাখিবার স্থান নাই। আমার আকস্মিক আগমনে ও বাস করিবার সংকল্প শুনিয়া তাহারা আনন্দে মুখ কালি করিয়া বলিতে লাগিলেন, আহা ! এ ত মুখের কথা, আহলাদের কথা ! এইবার একটি বিয়ে-থা করে সংসারী হ শ্ৰীকান্ত । আমরা দেখে চক্ষু জুড়োই। বলিলাম, সেই জন্তেই ত এসেচি। এখন আপাততঃ আমার মায়ের ঘরটা ছেড়ে দাও, আমি হাত-পা ছড়িয়ে একটু শুই । আমার বাবার এক মাতুল-কন্যা তথায় স্বামী-পুত্র লইয়া কিছুদিন হইতে বাস করিতেছিলেন, তিনি আসিয়া বলিলেন, তাই ত ! বলিলাম, আচ্ছ। আচ্ছা, আমি বাহিরের ঘরেই না হয় থাকব—ঘরে ঢুকিয়া দেখি এককোণে চুন এবং এককোণে স্বরকি গাদা করা আছে। তাহার মালিক বলিলেন, তাই ত । এগুলো দেখেশুনে কোথাও এখন সরাতে হবে দেখচি। এ ঘরটা ত ছোট নয়—ততক্ষণ না হয় এই ধারে একটা তক্তাপোশ পেতে—কি বলিস্ শ্রীকান্ত ! বলিলাম, আচ্ছ, রাত্রির মত না হয় তাই হোক । বস্তুতঃ এমনি শ্রাস্ত হইয়া পড়িয়াছিলাম যে, যেখানে হোক একটু শুইতে পাইলেই যেন বঁচি, এমনি মনে হইতেছিল। বৰ্ম্মর্ণয় সেই অমুখ হইতে শরীর আমার কোন দিনই সম্পূর্ণ মুস্থ ও সবল হইতে পারে নাই, ভিতরে ভিতরে একটি গ্লানি প্রায়ই অনুভব করিতাম। তাই সন্ধ্যার পর হইতে মাথাটা টিপ, টিপ করিতে লাগিল, তখন বিশেষ আশ্চৰ্য্য হইলাম না । রাঙাদিদি আসিয়া বলিলেন, ওটা গরম। ভাত খেয়ে ঘুমোলেই সেরে যাবে। তথাস্তু। তাই হইল। গুরুজনের আজ্ঞা শিরোধাৰ্য্য করিয়া গরম কাটাইতে অল্প আহার করিয়া শয্যাগ্রহণ করিলাম। সকালে ঘুম ভাঙিল—বেশ একটু জর লইয়া। রাঙাদিদি আসিয়া গায়ে হাত দিয়া কহিলেন, কিছু না, ওটা ম্যালোয়ারী। ওতে ভাত খাওয়া চলে । কিন্তু আজ আর সায় দিতে পারিলাম না। বলিলাম, না, রাঙাদি, আমি এখনো 3&to