প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমাদের যে আজ তোমার পায়ের ধূলো পড়ল। ছেলেট এক সারা হয়ে যায়, তা তোমরা— ধৰ্ম্মদাস গোবিন্দের প্রতি কট্‌মটু করিয়া চাহিল। তিনি ভ্ৰক্ষেপ মাত্র না করিয়া কহিল, তা তোমরা ত কেউ এদিক মাড়াবে না দাদা ; বলিয়া তাহার হাতে স্থ কাটা তুলিয়া দিল। দীয় ভট্চায আসন গ্রহণ করিয়া দগ্ধ হু কাটায় নিরর্থক গোটাটুই টান দিয়া বলিল, আমি ত ছিলাম না ভায়া—তোমার বৌঠাকরুণকে আনতে তার বাপের বাড়ি গিয়েছিলুম। বাবাজী কোথায় ? শুনচি নাকি ভারী আয়োজন হচ্চে ? পথে আসতে ও গায়ের হাটে শুনে এলুম খাইয়ে-দাইয়ে ছেলেবুড়োর হাতে ষোলখানা করে লুচি আর চার-জোড়া করে সন্দেশ দেওয়া হবে | গোবিন্দ গলা খাটো করিয়া কহিল, তা ছাড়া হয়ত একখানা করে কাপড়ও। এই যে রমেশ বাবাজী, তাই দীমুদাকে বলছিলাম বাবাজী, তোমাদের পাঁচজনের বাপ-মায়ের আশীর্বাদে যোগাড-সোগান্ড একরকম করা তো যাচ্ছে, কিন্তু বেণী একেবারে উঠে পড়ে লেগেচে । এই আমার কাছেই দুবার লোক পাঠিয়েচে । ত৷ আমার কথা না হয় ছেড়েই দিলে, রমেশের সঙ্গে আমার যেন নাড়ির টান রয়েচে ; কিন্তু এই যে দীমুদা, ধৰ্ম্মদাসদা, এরাই কি বাবা তোমাকে ফেলতে পারবেন ? দীমুদ ত পথ থেকে শুনতে পেয়ে ছুটে আসচেন। ওরে ও ষষ্ঠীচরণ, তামাক দে না রে! বাবা রমেশ, একবার এদিকে এস দেখি, একটা কথা বলে নিই! নিভৃতে ডাকিয়া লইয়া গোবিন্দ ফিস্ ফিস্ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ভিতরে বুঝি ধর্মদাস-গিল্পী এসেচে ? খবরদার, খবরদার, অমন কাজটি কোরে না বাবা ! বিটুলে বামুন যতই ফোসলাক, ধর্মদাস-গিনীর হাতে ভঁড়ারের চাবিটাবি দিও না বাবা, কিছুতে দিও না—ঘি, ময়দা, তেল, মুন, অৰ্দ্ধেক সরিয়ে ফেলবে। তোমার ভাবনা কি বাবা ? আমি গিয়ে তোমার মামীকে পাঠিয়ে দেব। সে এসে ভাড়ারের ভার নেবে, তোমার একগাছি বুটাে পৰ্যন্ত লোকসান হবে না। রমেশ ঘাড় নাড়িয়া “যে আজ্ঞ বলিয়া মৌন হইয়া রহিল ! তাহার বিস্ময়ের অবধি নাই। ধর্মদাস যে তাহার গৃহিণীকে ভাড়ারের ভার লইবার জন্য পাঠাইয়া দিবার কথা এত গোপনে কহিয়াছিলেন, গোবিন্দ ঠিক তাহাই আন্দাজ করিয়াছিল কিরূপে ? উলঙ্গ শিশু-ফুটা ছুটিয়া আসিয়া দীচুদার কাধের উপর ঝুলিয়া পড়িল-বাবা, সন্দেশ খাব ৷ দীকু একবার রমেশের প্রতি একবার গোবিন্দের প্রতি চাহিয়া কহিলেন, সন্দেশ কোথায় পাব রে ? কেন, ঐ যে হচ্চে, বলিয়া তাহারা ওদিকের ময়রাদের দেখাইয়া দিল । }8३