পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ ধরিয়া কাজ কঁাদ হুইয়া বলিল, আমি বড় দুঃখী বাবা রমেশ, আমাকে এমন করে বললে যে লজ্জায় মরে যাই । ছেলেমেয়ে সঙ্গে করিয়া বৃদ্ধ ধীরে ধীরে চলিয়া গেল। রমেশ ফিরিয়া আসিয়া মুহূর্তের জন্য নিজের রূঢ় কথা স্মরণ করিয়া গাঙ্গুলীমশায়কে কিছু বলিবার চেষ্টা করিতেই সে থামাইয়া দিয়া উদ্দীপ্ত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, এ যে আমার নিজের কাজ রমেশ, তুমি না ডাকলেও যে আমাকে নিজে এসেই সমস্ত করতে হত। তাইত এসেছি ; ধৰ্ম্ম দাসদা আর আমি দুই ভায়ে ত তোমার ডাকবার অপেক্ষ রাখিনি বাবা । ধৰ্ম্ম দাস এইমাত্র তামাক খাইয়া কাসিতেছিল। লাঠিতে ভর দিয়া দাড়াইয়। কালির ধমকে চোখ-মুখ রাঙ্গা করিয়া হাত ঘুরাইয়া বলিল, বলি শোন রমেশ, আমরা বেণী ঘোষাল নই। আমাদের জন্মের ঠিক আছে। তাহার কুৎসিত কথায় রমেশ চমকিয়া উঠিল ; কিন্তু রাগ করিল না। এই অত্যন্ত্র সময়ের মধ্যেই সে বুঝিয়াছিল, ইহারা শিক্ষা ও অভ্যাসের দোষে অসঙ্কোচে কত বড় গৰ্হিত কথা যে উচ্চারণ করে, তাহ জানেও না। জ্যাঠাইমার সঙ্গেহ অনুরোধে এবং তাহার ব্যথিত মুখ মনে করিয়া রমেশ ভিতরে ভিতরে পীড়া অনুভব করিতেছিল। সকলে প্রস্থান করিলে সে বড়দার কাছে যাইবার জন্য প্রস্তুত হইল। বেণীর চণ্ডীমণ্ডপের বাহিরে আসিয়া যখন উপস্থিত হইল, তখন রাত্রি আটট। ভিতরে যেন একটা লড়াই চলিতেছে। গোবিন্দ গাঙ্গুলীর হাকাহাকিটাই সবচেয়ে বেশী। বাহির হইতেই তাহার কানে গেল, গোবিন্দ বাজি রাখিয়া বলিতেছে, এ যদি না দু’দিনে উচ্ছন্ন যায় ত আমার গোবিন্দ গাঙ্গুলী নাম তোমরা বদলে রেখে বেণীবাবু নবাবী কাণ্ডকারখানা শুনলে ত? তারিণী ঘোষাল সিকি পয়সা রেখে মরেনি, তা ত জানি, তবে এত কেন ? হাতে থাকে কর, না থাকে বিষয় বন্ধক দিয়ে কে কবে ঘটা ক'রে বাপের ছাদ করে, তা ত কখন শুনিনি বাবা! আমি তোমাকে নিশ্চয় বলচি বেণীমাধববাবু, এ ছোড়া নন্দীদের গদি থেকে অন্ততঃ তিনটি হাজার টাকা দেনা করেচে। i বেণী উৎসাহিত হইয়া কহিলেন, তা হলে কথাটা ত বা’র করে নিতে হচ্চে গোবিন্ধুড়ো ? গোবিন্দ স্বর মৃদ্ধ করিয়া বলিলেন, সবুর কর না বাবাজী ! একবার ভাল করে ঢুকতেই দাও ন—তার পরে—বাইরে দাড়িয়ে কে ও ? এ কি রমেশ বাবাজী ? আমরা থাকতে এভ রাত্তিরে তুমি কেন বাবা ? রমেশ সে কথার জবাব না দিয়া অগ্রসর হইয়া আসিয়া বলিল, বড়দা, আপনার কাছেই এলুম। বেণী খতমত খাইয়া জবাব দিতে পারিল না। গোবিন্দ তৎক্ষণাৎ কহিল, আসবে 》8冷