প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বৈ কি বাবা, একশ’বার আসবে! এ ত তোমারই বাড়ি। আর বড়ভাই পিতৃতুল্য! তাই ত আমরা বেণীবাবুকে বলতে এসেছি, বেণীবাবু, তারিণীদার সঙ্গে মনোমালিন্ত র্তার সঙ্গেই যাকৃ—আর কেন ? তোমরা দু'ভাই এক হও, আমরা দেখে চোখ জুড়োই—কি বল হালদারমামা ? ও কি, দাড়িয়ে রইলে যে বাবা-কে আছিল রে, একখানা কম্বলের আসন-টাসন পেতে দে না রে! না বেণীবাবু, তুমি বড়ভাই —তুমিই সব । তুমি আলাদা হয়ে থাকলে চলবে না। তা ছাড় বড়গিল্পীঠাকরুণ যখন স্বয়ং গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন, তখন— বেণী চমকাইয়া উঠিল—ম গিয়েছিলেন ? এই চমকটা লক্ষ্য করিয়া গোবিন্দ মনে মনে খুণী হইলেন। কিন্তু বাহিরে সে ভাব গোপন করিয়া নিতান্ত ভালমামুষের মত খবরটা ফলাও করিয়া বলিতে লাগিল, শুধু যাওয়া কেন, ভাড়ার-টাড়ার—করা-কৰ্ম্ম যা কিছু তিনিই ত করচেন। আর তিনি না করলে করবেই বা কে ? সকলে চুপ করিয়া রহিল। গোবিন্দ একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন, না: —গায়ের মধ্যে বড়গিল্পীঠাকরুনের মত মানুষ কি আর আছে ? না হবে কেন ? না বেণীবাবু, সামনে বললে খোশামোদ করা হবে, কিন্তু যে যাই বলুক, গায়ে যদি লক্ষ্মী থাকেন ত সে তোমার মা। এমন মা কি কারু হয় ? বলিয়া পুনশ্চ একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিয়া গম্ভীর হইয়া রছিলেন। বেণী অনেকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া অক্ষুটে কহিল, আচ্ছা— গোবিন্দ চাপিয়া ধরিল, শুধু আচ্ছা নয়, বেণীবাবু! যেতে হবে, করতে হবে, সমস্ত ভার তোমার উপরে। ভাল কথা, সবাই আপনারা ত উপস্থিত আছেন, নেমস্তন্নটা কি রকম করা হবে একটা ফর্দ করে ফেলা হোক না কেন ? কি বল রমেশ বাবাজী ? ঠিক কথা কি না হালদারমামা ? ধৰ্ম্মদাসদা চুপ করে রইলে কেন ? কাকে বলতে হবে, কাকে বাদ দিতে হবে জান ত সব । রমেশ উঠিয়া দাড়াইয়া সহজ-বিনীতকণ্ঠে বলিল, বড়দ, একবার পায়ের ধুলে যদি দিতে পারেন— বেণী গম্ভীর হইয়া কহিল, মা যখন গেছেন তখন আমার যাওয়া না-যাওয়া—কি বল গোবিন্দখুড়ো ? গোবিন্দ কথা কহিবার পূৰ্ব্বেই রমেশ বলিল, আপনাকে আমি পীড়াপীড়ি করতে চাইনে বডদা, যদি অস্ববিধা না হয় একবার দেখে-শুনে আসবেন। বেণী চুপ করিয়া রহিল। গোবিন্ধ কি একটা বলিবার চেষ্টা করিতেই রমেশ উঠিয়া চলিয়া গেল। তখন গোবিন্দ বাহিরের দিকে গলা বাড়াইয়া দেখিয়া ফিসফিস্ করিয়া বলল, দেখলে বেণীবাবু, কথার ভাবখানা। Y& e