প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শবৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পাবই, সে কখনো পরের জিনিস আত্মসাৎ করবে না। আমি ঠিক জানি মা, এত বিবাদ-বিসংবাদের পরেও তোমাব ওপর সেই বিশ্বাসই ছিল যদি না সেদিন গড়পুকুরে— কথাটার মাঝখানেই বিশ্বেশ্ববী সহসা থামিয়া গিয়া নির্মিমেষ-চক্ষে কিছুক্ষণ ধবিয৷ রমার আনত শুষ্ক মুখের পানে চাহিযা থাকিয়া অবশেষে বলিলেন, আজ একটা কথা বলি মা তোমাকে, বিষয়-সম্পত্তি রক্ষণ করার দাম যতই হোক রমা, এই রূমেশের প্রাণটার দাম তার চেয়ে অনেক বেশী । কারো কথায়, কোন বস্তুব লোভেতেই মা সেই জিনিসটিকে তোমবা চারিদিক থেকে ঘা মেরে নষ্ট করে ফেলো না। দেশেব যে ক্ষতি তাতে হবে, আমি নিশ্চয় বলচি তোমাকে, কোন কিছু দিয়েই আর তার পূর্ণ হবে না। রমা স্থির হইযা বসিযা রহিল, একটি কথাবও প্রতিবাদ কবিল না। বিশ্বেশ্বরী আর কিছু বলিলেন না। খানিক পরে বম অস্পষ্ট মৃদুকণ্ঠে কহিল, বেলা গেল, আজ বাড়ি যাই জ্যাঠাষ্টমা, বলিয়া প্রণাম করিয়া পায়ের ধূলা মাথায় লইযা চলিযা গেল। > যত বাগ কবিযাই বমেশ চলিয়া আমুক, বাডি পৌছিতে না পৌছিতে তাহার সমস্ত উত্তাপ যেন জল হইয়া গেল । সে বীর বাব কবিয বলিতে লাগিল—এই সোজা কথাটা না বুঝিযা কি কষ্টই না পাইতেছিলাম। বাস্তবিক, রাগ কবি কাহাব উপর ? যাহারা এতই সঙ্কীর্ণভাবে স্বার্থপর যে, যথার্থ মঙ্গল কোথায, তাহা চোখ মেলিয়া দেখিতেহ জানে না, শিক্ষার অভাবে যাহার এমনি অন্ধ যে, কোনমতে প্রতিবেশীর বলক্ষ্য করাটাকেহ নিজেদের বল-সঞ্চয়ের শ্রেষ্ঠ উপায় বলিয়া মনে করে, যাহাদের ভাল কল্পিতে গেলে সংশয়ে কণ্টকিত হুইযা উঠে, তাহদের উপর অভিমান করার মত ভ্ৰম জার ত কিছুই হইতে পারে না। তাহার মনে পড়িল, দূরে শহরে বসিয়া সে বই পড়িয়া, কানে গল্প শুনিয়া, কল্পনা করিয়া কতবার ভাবিযাছে— আমাদের বাঙালী জাতির আর কিছু যদি না থাকে ত নিভৃত গ্রামগুলিতে সেই শাস্তি-স্বচ্ছন্দতা আজও আছে, যাহা বহুজনাকীর্ণ শহরে নাই । সেখানে স্বল্পে সন্তুষ্ট সরল গ্রামবাসীরা সহানুভূতিতে গলিয়া যায়, একজনের দুঃখে আর একজন বুক দিয়া আসিয়া পড়ে, একজনের স্বখে আর একজন অনাহুত উৎসব করিয়া যায়। শুধু সেইখানে, সেই সব খায়ের মধ্যেই এখনো বাঙালীর সত্যকার ঐশ্বৰ্য্য অক্ষয় হইয়া আছে। হায় রে। এ কি ভয়ানক জাস্তি ! তাহার শহরের মধ্যেও যে এমন বিরোধ, এই পরঐকাতরতা X ፃረይ