প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


भन्त्री-गर्भाङ y কথা শুনিয়া রমার সৰ্ব্বাঙ্গ কাটা দিয়া বারংবার শিহরিয়া উঠিল ; কিন্তু সে তৎক্ষণাৎ স্থির হইয়া বলিল, এ ভুলতে আপনার বেশী দিন লাগবে না। যদি বা একদিন মনেও পড়ে, অতি তুচ্ছ বলেই মনে পড়বে। রমেশ কোন উত্তর করিল না। রমা কহিল, দেশে গিয়ে যে নিন্দে করবেন না, এই আমার ভাগ্য। রমেশ আবার একটা নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে বলিল, না রম, নিন্দেও করব না, মুখ্যাতি করেও বেড়াব না। আজকের দিনটা আমার নিন্দা-মুখ্যাতির বাইরে । রম কোন প্রত্যুত্ত্বর না করিয়া খানিকক্ষণ স্থির হইয়া বসিয়া থাকিয় নিজের ঘরে উঠিয়া চলিয়া গেল । সেখানে নির্জন ঘরের মধ্যে তাহার দুই চক্ষু বাহিয়া বড় বড় অশ্রুর ফোটা টপ টপ, করিয়া ঝরিয়া পড়িতে লাগিল । XX দুইদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত হইয়া অপরাইবেলায় একটু ধরণ করিয়াছে। চণ্ডীমগুপে গোপাল সরকারের কাছে বসিয়া রমেশ জমিদারীর হিসাবপত্র দেখিতেছিল ; অকস্মাৎ প্রায় কুড়িজন কৃষক আসিয়া কাদিয়া পড়িল--ছোটবাবু, এ-যাত্রা রক্ষে করুন, আপনি না বাচালে ছেলেপুলের হাত ধরে আমাদের পথে ভিক্ষা করতে হবে। রমেশ অবাক হইয়া কহিল, ব্যাপার কি ? চাষার কহিল, একশ' বিঘের মাঠ ডুবে গেল, জল বার করে না দিলে সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে বাবু, গায়ে একটা ঘরও খেতে পাবে না। কথাটা রমেশ বুঝিতে পারিল না। গোপাল সরকার তাহদের দুই-একটা প্রশ্ন করিয়া ব্যাপারটা রমেশকে বুঝাইয়া দিল। একশ' বিঘার মাঠটাই এ গ্রামের একমাত্র ভরস । সমস্ত চাষীদেরই কিছু কিছু জমি তাহাতে আছে। ইহার পূৰ্ব্বধারে সরকারী প্রকাণ্ড বঁধ, পশ্চিম ও উত্তরধারে উচ্চ গ্রাম, শুধু দক্ষিণধারের বাঁধটা ঘোষাল ও মুখুয্যেদের । এই দিক দিয়া জল-নিকাশ করা যায় বটে, কিন্তু বাধের গায়ে একটা জলার মত আছে। বৎসরে দুশ টাকার মাছ বিক্রি হয় বলিয়া জমিদার বেণীবাবু তাহ কড়া পাহারায় আটকাইয়া রাখিয়াছেন। চাষীরা আজ সকাল হইতে র্তাহাদের কাছে হত্যা দিয়া পড়িয়া থাকিয়৷ এইমাত্র কাদিতে কঁাদিতে উঠিয়া এখানে আসিয়াছে। রমেশ আর শুনিবার জন্ত অপেক্ষা করিল না, দ্রুতপদে প্রস্থান করিল। এ বাড়িতে আসিয় যখন প্রবেশ করিল, তখন সন্ধা হয় হয়। বেণী তাকিয়া ঠেস দিয়া (تاساو.