পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্পী-সমাজ জ্যাঠাইমা উদ্দীপ্ত হইয়া বলিলেন, তোর একার বৈ কি বাবা, শুধু তোরই মা ! দেখতে পাসনে, মা মুখ ফুটে সন্তানের কাছে কোন দিনই কিছু দাবী করেননি। তাই এত লোক থাকতে কারো কানেই তার কান্না গিয়ে পৌঁছতে পারেনি, কিন্তু তুই আসবামাত্রেই শুনতে পেয়েছিলি । রমেশ আর তর্ক করিল না, কিছুক্ষণ স্থিরভাবে বসিয়া থাকিয়া নিঃশব্দে প্রগাঢ় শ্রদ্ধাভরে বিশ্বেশ্বরীর পায়ের ধূলা মাথায় লইয়া ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল। ভক্তি, করুণা ও কতব্যের একান্ত নিষ্ঠায় হৃদয় পরিপূর্ণ করিয়া লইয়। রমেশ বাড়ি ফিরিয়া আসিল। তখন সবেমাত্র স্বর্যোদয় হইয়াছে। তাহার ঘরের পূর্বদিকে মুক্ত জানলার সম্মুখে দাড়াইয়া সে স্তব্ধ হইয়া আকাশের পানে চাহিয়াছিল, সহসা শিশুকণ্ঠের জাহানে সে চমকিয়া মুখ ফিরাইতে দেখিল রমার ছোট ভাই যতীন দ্বারের বাহিরে দাড়াইয়া লজ্জায় আরক্ত মুখে ডাকিতেছে, ছোড়দা । রমেশ কাছে গিয়া হাত ধরিয়া তাহাকে ভিতরে আনিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কাকে ডাকচ যতীন ? আপনাকে । আমাকে ? আমাকে ছোড়দা বলতে তোমাকে কে বলে দিলে ? দিদি। দিদি ? তিনি কি কিছু বলতে তোমায় পাঠিয়েছেন ? যতীন মাথা নাড়িয়া কহিল, কিছু না । দিদি বললেন, আমাকে সঙ্গে করে তোর ছোড়দার বাড়িতে নিয়ে চল—ঐ যে ওখানে দাড়িয়ে আছেন, বলিয়া সে দরজার দিকে চাহিল। রমেশ বিস্মিত ও ব্যস্ত হইয়া অসিয়া দেখিল, রমা একটা থামের আড়ালে দাড়াইয়া আছে। সরিয়া আসিয়া সবিনয়ে কহিল, আজ আমার এ কি সৌভাগ্য! কিন্তু আমাকে ডেকে না পাঠিয়ে, নিজে কষ্ট করে এলে কেন ? এসো, ঘরে এসে । রম৷ এবার ইতস্তত: করিল তারপর যতীনের হাত ধরিয়া রমেশের অনুসরণ করিয়া তাহার ঘরের চৌকাঠের কাছে আসিয়া বসিয়া পড়িল। কহিল, আজ একটা জিনিস ভিক্ষে চাইতে আপনার বাড়িতে এসেচি–বলুন, দেবেন ? বলিয়। সে রমেশের মুখের পানে স্থিরদৃষ্টিতে চাহিয়া রহিল। সেই চাহনিতে রমেশের পরিপূর্ণ হৃদয়ের সপ্তম্বর অকস্মাৎ যেন উন্মাদ-শব্দে বাজিয়। উঠিয়া একেবারে ভাঙিয়া ঝরিয়া পড়িল । কিছুক্ষণ পূৰ্ব্বেহ তাহার মনের মধ্যে যে সকল সঙ্কল্প আশা ও আকাঙ্ক্ষ অপরূপ দীপ্তিতে নাচয়৷ ফিরিতেছিল—সমস্তই একেবারে নিবিয়া অন্ধকার হইয়া গেল। তথাপি প্রশ্ন করিল, কি চাই বল ? እm®