প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ রমেশ অধীরভাবে কহিল, আজে হুঁ, বুঝেচি। রমেশের বাড়ির সদর দরজার কাছে দাড়াইয়া দাম খুশী হইয়া কহিলেন, বুঝবে বৈ কি বাব, তোমরা ত আর অবুঝ নও। ও-ব্রাহ্মণকেই বা দোষ দিই কি করে—আমাদের বুড়োমামুষের পরকালের চিন্তাটা— আঞ্জে ই, সে ত ঠিক কথা , বলিয়। রমেশ তাড়াতাড়ি ভিতরে প্রবেশ করিল। গ্রামের লোক তাহাকে একঘরে করিয়াছে, তাহা বুঝিতে তাহার আর বাকী রহিল না । নিজের ঘরের মধ্যে আসিয়া ক্ষোভে, অভিমানে তাহার দুই চক্ষু জালা করিয়া উঠিল। আজ এইটা তাহার সবচেয়ে বেশী বাজল যে, বেণী ও গোবিন্দকেই ভৈরব আজ সমাদরে ডাকিয়া আনিয়াছে এবং গ্রামের লোক সমস্ত জালিয়া-শুনিয়াও ভৈরবের এই ব্যবহারটা শুধু মাপ করে নাই, সমাজের খাতিরে রমেশকে সে যে আহবান পৰ্য্যন্ত করে নাই, তাহার এই কাজটাকে প্রশংসার চক্ষে দেখিতেছে । হা ভগবান! সে একটা চৌকির উপর বসিয়া পড়িয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়। বলিল, এ কৃতঘ্ন জাতের, এ মহাপাতকের প্রায়শ্চিত্ত হবে কিসে ! এত বড় নিষ্ঠুর অপমান কি ভগবান তুমিই ক্ষমা করতে পারবে ? (t এমনি একটা আশঙ্কা যে রমেশের মাথার একেবাবেই আসে নাই তাহা নহে। তথাপি পরদিন সন্ধ্যার সময়ে গোপাল সরকার সদর হইতে ফিরিয়া আসিয়া যখন সত্যসত্যই জানাইল যে, ভৈরব আচাৰ্য্য তাঁহাদের মাথার উপরেই কঁঠাল ভাঙিয়া ভক্ষণ করিয়াছে অর্থাৎ সে মকদ্দমায় হাজির হয় নাই এবং তাহা এক-তরফা হইয়। ডিসমিস্ হইয়া গিয়া তাহদের প্রদত্ত জমা টাকাটা বেণী প্রভৃতির হস্তগত হইয়াছে, তখন এক মুহূর্তেই রমেশের ক্রোধের শিখা বিদ্যুদ্বেগে তাহার পদতল হইতে ব্ৰহ্মরন্ধ পৰ্য্যন্ত জলিয়া উঠিল। সেদিন ইহাদের জাল ও জুয়াচুরি দমন করিতে যে মিথ্যা ঋণ সে ভৈরবের হইয়া জমা দিয়াছিল, মহাপাপিষ্ঠ ভৈরব তাহার দ্বারাই নিজের মাথা বাচাইয়৷ লইয়া পুনরায় বেণীর সহিতই সখ্য স্থাপন করিয়াছে। তাহার এই কৃতঘ্নত কল্যকার অপমানকেও বহু উদ্ধে ছাপাইয়া আজ বৃমেশের মাথার ভিতরে প্রজ্জ্বলিত হইতে লাগিল। রমেশ যেমন ছিল তেমনি খাড়া উঠিয়া বাহির হইয়া গেল। আত্মসংবরণের কথাট তাহার মনেও হইল না। প্রভুর রক্তচক্ষু দেখিয়া ভীত হইয়া গোপাল জিজ্ঞাসা কাবুল, বাৰু কি কোথাও যাচ্চেন ? জাগচি, বলিয়া রমেশ দ্রুতপদে চলিয়া গেল। ভৈরবের বহির্বাটতে ঢুকিয়া দেখিল

  • * *