পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরং-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এনে এখন ঠিক জায়গাটিতে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েচি। এখন তুমি আমাদের মধ্যে এগে দাড়িয়েচ বলেই তোমার ভয় হচ্চে, আগে হ’লে এ আশঙ্কা তোমার মনেও ঠাই পেত না। তখন তুমি গ্রাম্য সমাজের অতীত ছিলে, আজ তুমি তারই একজন হয়েচ। তাই এ আলো তোমার মান হবে না—এখন প্রতিদিনই উজ্জল হ’য়ে উঠবে। সহসা জ্যাঠাইমার নামে রমেশ উদ্দীপ্ত হইয়া উঠিল , কহিল, ঠিক জানো কি রম, আমার এই দীপের শিখাটুকু আর নিবে যাবে না? রমা দৃঢ়কণ্ঠে কহিল, ঠিক জানি । যিনি সব জানেন এ সেই জ্যাঠাইমার কথা । এ কাজ তোমারি। আমার যতীনকে তুমি হাতে তুলে নিয়ে আমার সকল অপরাধ ক্ষমা ক’রে আজ আশীৰ্ব্বাদ করে আমাকে বিদায় দাও রমেশদা, আমি যেন নিশ্চিন্ত হ’য়ে যেতে পারি। বজগত মেঘের মত রমেশের বুকের ভিতরটা ক্ষণে ক্ষণে চমকিয়া উঠিতে লাগিল, কিন্তু সে মাথা হেঁট করিয়া স্তব্ধ হইয়া বসিয়া বহিল। রমা কহিল, আমার আর একটি কথা তোমাকে রাখতে হবে । বল রাখবে ? রমেশ মৃত্ত্বকণ্ঠে কহিল, কি কথা ? রম বলিল, আমার কথা নিয়ে বড়দার সঙ্গে তুমি কোনদিন ঝগড়া ক’রো না। রমেশ বুঝিতে না পারিয়া প্রশ্ন করিল, তার মানে! রমা কহিল, মানে যদি কখনও শুনতে পাও, সেদিন শুধু এই কথাটি মনে ক’রে, আমি কেমন ক’রে নিঃশব্দে সহ করে চ’লে গেছি—একটি কথারও প্রতিবাদ করিনি । এক দিন যখন অসহ মনে হয়েছিল সেদিন জ্যাঠাইম এসে বলেছিলেন, মা, মিথ্যেকে ঘাটাঘাটি করে জাগিয়ে তুললেই তার পরমায়ু বেড়ে ওঠে। নিজের অসহিষ্ণুতায় তার আয়ু বাড়িয়ে তোলার মত পাপ অল্পই আছে, তার এই উপদেশটি মনে রেখে আমি সকল দুঃখ-দুর্ভাগ্যই কাটিয়ে উঠেচি—এটি তুমিও কোনদিন ভুলো না রমেশদ । রমেশ নীরবে তাহার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। রমা ক্ষণেক পরে কহিল, আজ আমাকে তুমি ক্ষমা করতে পারচ না মনে কবে দুঃখ ক'বো না রমেশদা। আমি নিশ্চয়ই জানি, আজ যা কঠিন বলে মনে হচ্চে একদিন তাই সোজা হয়ে যাবে, সেদিন আমার সকল অপরাধ তুমি সহজেই ক্ষমা করবে জেনে আমার মনের মধ্যে আর কোন ক্লেশ নাই। কাল আমি যাচ্চি । কাল । রমেশ বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কোথায় যাবে কাল ? রম কহিল, জ্যাঠাইমা যেখানে নিয়ে যাবেন আমি সেইখানেই যাব। রমেশ কহিল, কিন্তু তিনি ত আর ফিবে আসবেন না শুন্‌চি । বৃমা ধীরে ধীরে বলিল, আমিও না । আমিও তোমাদের পায়ে জন্মের মত বিদায় নিচ্চি । 总°舖