পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পড়িল, উকুনের অস্পষ্ট আলোকেও বিরাজ তাহ দেখিল এবং সে যে কথা খুজিয়া পাইতেছে না, তাহাও বুঝিল । ঈষৎ হাসিয়া বলিল, সুন্দরী, তোর বুকের পাট এত বড় হবে না যে, তুই আমার কাছে মুখ খুলবি , কিন্তু কেন মিছে আনাগেন ক’রে টাকা খেয়ে শেষে বড়লোকের কোপে পড়বি ? কাল থেকে এ-বাড়িতে আর ঢুকিস্নে। তোর হাতের জল পায়ে ঢালতেও আমার ঘেন্ন করে। এতদিন তোর সব কথা জানতুম না, ছুদিন আগে তাও শুনেছি। কিন্তু যা, আঁচলে যে দশ টাকার নোট বাধা আছে, ফিরিয়ে দি গে, দিয়ে দুঃখী মানুষ, দুঃখ-ধান্দা করে খা গে। নিজে বয়সকালে যা করেচিস্, সে ত আর ফিরবে না, কিন্তু আর পাঁচজনের সর্বনাশ করতে যাস্নে । মুন্দরী কি একটা বলিতে চাহিল, কিন্তু তাহার জিভ মুখের মধ্যে আড়ষ্ট হইয়। রহিল। বিরাজ তাহাও দেখিল । দেখিয়া বলিল, মিথ্যে কথা বলে আর কি হবে ? এ-সব কথা আমি কাউকে বলব না । তোর আঁচলে বাধা নোট কোথা থেকে এল, সে কথা আমি আগে বুঝিনি, কিন্তু এখন সব বুঝতে পাচ্ছি। যা, আজ থেকে তোকে আমি জবাব দিলুম—কাল আর আমার বাড়ি ঢুকিসনে । এ কি কথা ! নিদারুণ বিস্ময়ে স্বন্দর বাকৃশুষ্ঠ হইয়া বসিয়া বহিল। এ-বাটতে তাহার কাজ গেল, এমন অসম্ভব কথা সে মনের মধ্যে ঠিক মত গ্রহণ করিতেও পারিল না । সে অনেক দিনের দাসী । সে বিরাজের বিবাহ দিয়াছে, হরিমতিকে মানুষ করিয়াছে, গৃহিণীর সহিত তীর্থদর্শন করিয়া আসিয়াছে—সেও যে এ-বাটীর একজন। আজ তাহাকেই বিরাজ-বোঁ বাটতে প্রবেশ করিতে নিষেধ করিল। ক্ষোভ এবং অভিমান তাহার কণ্ঠ পর্য্যন্ত ঠেলিয়া উঠিল -এক মুহূর্তে কত রকমের জবাব-দিহি, কত রকমের কথা তাহার জিহাগ্র পর্য্যন্ত চুটিয়া আসিল, কিন্তু মুখ দিয়া শব্দ বাহির করিতে পারিল না—বিহবলের মত চাহিয়া রহিল । বিরাজ মনে মনে সমস্ত বুঝিল, কিন্তু সেও কথা কহিল না। মুখ ফিরাইয়া দেখিল, হাড়ির জল কমিয়া গিয়াছে। অদূরে একটা পিতলের কলসীতে জল ছিল ; ঘটি লইয়। তাহার কাছে আসিল , কিন্তু কি ভাবিয়া একমুহূৰ্ত্ত স্থির থাকিয়া ঘটিটা রাখিয়া দিল—না, তোর হাতের জল ছুলে ওঁর অকল্যাণ হবে-তুই ঐ হাত দিয়ে টাকা নিয়েছিল । মুন্দরী এ তিরস্কারের উত্তরও দিতে পারিল না। বিরাজ আর একটি প্রদীপ জালিয়া কলসীটা তুলিয়া লইয়া স্বচীভেদ্য অন্ধকারে আমবাগানের ভিতর দিয়া একা নদীতে জল আনিতে চলিয়া গেল। বিরাজ চলিয়া গেল, মুন্দরীর একবার মনে হইল, সে পিছনে যায়, কিন্তু সেই অন্ধকারে সঙ্কীর্ণ বন-পথ, 镇地》