প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহার মূখ-চোখের ভাব লক্ষ্য করিয়া নীলাম্বর অত্যন্ত বিস্মিত হইয়া বলিল, আমি স্বামী, আমার কি একটা কৰ্ত্তব্য নেই ? বিরাজ কোনরূপ চিন্তা না করিয়াই বলিয়া বসিল, স্বামীর অন্য কর্তব্য আগে কর, তার পরে এ কর্তব্য করতে যও। কি ? বলিয়া নীলাম্বর ক্ষণকাল স্তম্ভিত হইয়৷ থাকিয়া অবশেষে মৃদুস্বরে "আচ্ছা! বলিয়। একটা নিশ্বাস ফেলিয়। পাশ ফিরিয়া চুপ করিয়া শুইল । বিরাজ তেমনিভাবে স্থির গুইয়। ভাবিতে লাগিল, এ কি কথা সহসা তাহার মুখ দিয়া আজ বাহির হইয়া গেল ! বাহিরে বর্ষার প্রথম বারিপাতের মৃদু শব্দে খেল জনােলর ভিতর দিয়া ভিজামাটির গন্ধ বষ্টিয়া আসিতে লাগিল, ভিতরে স্বামী-স্ত্রী নিৰ্ব্বাক স্তব্ধ হইয়া রহিল। বহুক্ষণ পরে নীলাম্বর গভীর আর্তকণ্ঠে কতকটা যেন নিজের মনেই বলিল, আমি যে কত অপদার্থ বিরাজ, তা তোর কাছে যেমন শিথি, তেমন আর কারও কাছে নয় । বিরাজ কি কথা বলিতে চাহিল, কিন্তু তাহার গলা দিয়া শব্দ ফুটিল না । বহুদিন পরে আজ এই অসহ দুঃখদৈন্তপীড়িত দম্পতিটির সন্ধির সূত্রপাতেই আবার তাহা ছিন্ন-ভিন্ন হইয়া গেল । 6 মধ্যাহ্নে কেই কোথাও নাই দেখিয়া ছোটবোঁ কাদিতে কঁাদিতে বিরাজের পায়ের নিচে আসিয়া পড়িল । স্বামীর অপরাধের ভয়ে ব্যাকুল হইয়। এই দুইদিন ধরিয়া সে অনুক্ষণ এষ্ট সুযোগটুকু প্রতীক্ষা করিতেছিল। কাদিয়া বলিল, শাপ সম্পাত দিও না দিদি, আমার মুখ চেয়ে ওঁকে মাপ কর, ওঁর কিছু হ’লে আমি বঁচিব না। বিরাজ হাত ধরিয়া তাহাকে তুলিয়া বিবৰ্ণ গম্ভীর মুখে বলিল, আমি অভিসম্পাত দেব না বোন, আমার অনিষ্ট করবার সাধ্যও এর নেই, কিন্তু তোর মত সতী লক্ষ্মীর দেহে বিনা দোষে হাত তুললে মা দুর্গ সহ করবেন না যে! মোহিনী শিহরিয়া উঠিল। চোখ মুছিয়া বলিল, কি করব দিদি, ঐ তার স্বভাব । যে দেবতা ওঁর দেহে অমন রাগ দিয়েছেন, তিনিই মাপ করবেন। তবুও এমন দেব-দেবতা নেই যে, এ জন্য মানত করিনি ; কিন্তু মহাপাপী আমি ; আমার ডাকে ९* 8